এই ভিটামিন আমরা দুধ, ডিম, স্যামন মাছ, সবুজ শাকসবজি থেকে পেতে পারি। যদিও অনেক দেশে ভিটামিন এ-এর অভাব এখন তেমন দেখা যায় না, তবে খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম হলে এই ঘাটতি দেখা দিতে পারে।চলুন, জেনে নিই ভিটামিন এ-এর ঘাটতির কিছু লক্ষণ ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব।
দাঁতের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়
দাঁতের গঠন ঠিকমতো হয় না, এনামেল সঠিকভাবে তৈরি হয় না, মাড়ির রোগ বা পিরিওডোন্টাইটিস দেখা দিতে পারে।
হাড়ের দুর্বলতা
সঠিক মাত্রায় ভিটামিন এ গ্রহণ করলে হাড় শক্ত হয় ও ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি কমে। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করলে হাড় দুর্বল হয়ে বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে।
চুল পড়া
চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে রেটিনোয়িক অ্যাসিড, যা ভিটামিন এ থেকে তৈরি হয়। এর ঘাটতিতে চুল পড়া শুরু হয়। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করলেও চুল ঝরে যেতে পারে। সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করাই ভালো।
ত্বকের সমস্যা (ফ্রিনোডার্মা)
ভিটামিন এ-এর ঘাটতিতে ফলিকুলার হাইপারকেরাটোসিস হতে পারে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট শক্ত ফোঁড়া হয়, বিশেষ করে কাঁধ, কনুই, হাঁটু ও নিতম্বে।
শিশুদের মধ্যে লক্ষণ
১। ঘন ঘন ডায়রিয়া ও বমি
২। সর্দি-কাশির সঙ্গে জ্বর
৩। চোখের ক্ষত
৪। রাতকানা বা অন্ধত্বের ঝুঁকি
উন্নয়নশীল দেশগুলোর ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।
গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকি
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীরা যদি পর্যাপ্ত ভিটামিন এ না পান, তাহলে দেখা দিতে পারে: রক্তাল্পতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, রাতকানা, সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫% গর্ভবতী নারী এ ঘাটতির কারণে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের শিকার হন।
দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতির প্রভাব
১। দীর্ঘস্থায়ী ভিটামিন এ ঘাটতিতে হাম ও নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ হতে পারে
২। হতে পারে রক্তাল্পতা, যার ফলে শরীরের অক্সিজেন পরিবহণ বাধাগ্রস্ত হয়
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, চোখের শুষ্কতা, ঘন ঘন সংক্রমণ বা রাতকানার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শুধুমাত্র খাবারের মাধ্যমে না পেলে, ডাক্তার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিপূরক দিতে পারেন।
ভিটামিন এ-এর ঘাটতি একটি প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা। সুষম খাদ্যগ্রহণ ও সচেতনতা আপনাকে এর ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে পারে। খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য আনুন, বিশেষ করে দুধ, ডিম, শাকসবজি ও মাছের মতো পুষ্টিকর খাবার খান।