রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে কী খাওয়া হচ্ছে, তা কিডনি রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাবার নির্বাচন না করলে রক্তে পটাশিয়াম বা সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়ে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সুস্থভাবে রোজা সম্পন্ন করতে কিডনি রোগীদের ইফতারের মেন্যু হতে হবে বিশেষ সতর্কতামূলক। মূলত শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাই হলো এর প্রধান লক্ষ্য।
চলুন, জেনে নিই কিডনি রোগীরা ইফতারে কোন খাবারগুলো রাখবেন এবং কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন তার একটি তালিকা।
ইফতারে যা খাওয়া যাবে :
সীমিত খেজুর : পটাশিয়ামের কথা মাথায় রেখে ১-২টির বেশি খেজুর খাবেন না।
উপকারী ফল ও সবজি: শসা, আপেল, নাশপাতি, পেঁপে, লাউ বা ক্যাপসিকাম কিডনির জন্য নিরাপদ।
শরবত : অতিরিক্ত চিনি ছাড়া লেবুর পানি বা ঘরোয়া শরবত খাওয়া যেতে পারে।
সহজপ্রাচ্য প্রোটিন : চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, গ্রিল করা মুরগি বা মাছ অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।
হালকা খাবার : লবণ কম দিয়ে মুড়ি, দই-মুড়ি বা চিঁড়া খাওয়া ভালো। এ ছাড়া সবজির পাতলা স্যুপও বেশ আরামদায়ক।যা এড়িয়ে চলতে হবে :
অতিরিক্ত লবণ ও ভাজাপোড়া : বাইরের কেনা ইফতারি, চানাচুর, নোনতা বিস্কুট বা প্রক্রিয়াজাত খাবার একদম পরিহার করুন।
উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফল : কলা, কমলা, মাল্টা, আলু, টমেটো, কাঁঠাল ও ডাবের পানি (বেশি পরিমাণে) এড়িয়ে চলাই ভালো।
মিষ্টি পানীয় : কোল্ড ড্রিংকস বা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া শরবত কিডনির জন্য ক্ষতিকর।
দুগ্ধজাত খাবার : বেশি পরিমাণে দুধ বা পনির এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ফসফরাস থাকে যা হাড় ও কিডনির সমস্যা বাড়াতে পারে।
বিশেষ পরামর্শ :
ইফতারের পর একবারে অনেকটা পানি না খেয়ে বরং সাহরি পর্যন্ত ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। তবে যাদের ডায়ালাইসিস চলছে বা অন্য কোনো জটিলতা আছে, তারা অবশ্যই রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ডায়েট চার্ট ঠিক করে নেবেন।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..