# এ. বি. খান # সৌন্দর্যের ডালি সাজাতে বাগানের শৌখিন উদ্ভিদপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দ এই বামন বা খাটো গোলাপি কাঠগোলাপ। এই কালটিভারের নাম Plumeria obtusa ‘Dwarf Singapore Pink’ , এটি Apocynaceae পরিবারের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণ কাঠগোলাপ গাছ বিশাল আকারের হলেও এই জাতটি আকারে বেশ ছোট এবং সহজেই টবে বা ছোট জায়গায় চাষ করা যায়। চমৎকার গোলাপি আভা ও মনোমুগ্ধকর সুবাসের জন্য বিশ্বজুড়ে টব, বাগান ও ল্যান্ডস্কেপিংয়ে এর কদর ব্যাপক।
অন্যান্য প্রথাগত কাঠগোলাপের মতো এটি খুব বেশি লম্বা হয় না। প্রাকৃতিকভাবে বা টবে চাষ করলে এর উচ্চতা সাধারণত ৩ থেকে ৬ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ঘন শাখাপ্রশাখা ও ঝোপালো গড়নের কারণে এটি ছোট বাগান বা বারান্দার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।এর পাতাগুলো সাধারণত বেশ পুরু, উজ্জ্বল গাঢ় সবুজ ও চকচকে। পাতার শেষ প্রান্তটি গোলাকার এবং স্পর্শ করলে চামড়ার মতো শক্ত অনুভূতি হয়। সাধারণ কাঠগোলাপের মতো শীতকালে এর সব পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না, বরং সঠিক পরিচর্যায় সারা বছরই গাছটি সতেজ ও সবুজ থাকে।
এই গাছের প্রধান আকর্ষণ হলো এর ফুল। থোকা থোকা ফুলে চারপাশ ভরে থাকে। প্রতিটি ফুলের মাঝখানে উজ্জ্বল হলুদ রঙের ছোঁয়া এবং পাপড়ির কিনারা ঘেঁষে হালকা থেকে মাঝারি গোলাপি রঙের মনোমুগ্ধকর শেড থাকে। ফুলের পাপড়িগুলো কিছুটা গোলাকার ও মসৃণ। এই জাতটির ফুল থেকে মিষ্টি, মৃদু ও সতেজ সুবাস নির্গত হয়, যা বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে তীব্র হয় এবং চারপাশের পরিবেশকে সুবাসিত করে তোলে। ঘরের বারান্দা, ছাদবাগান, রিসোর্ট, পার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রাঙ্গণ সাজাতে এর জুড়ি নেই। এর খর্বাকৃতির কারণে খুব সহজেই একে টবে প্রতিস্থাপন করা যায়।
এর ফুলের মিষ্টি সুবাস অনেকের কাছে প্রশান্তিদায়ক মনে হতে পারে। কাঠগোলাপের নির্যাস সুগন্ধি শিল্পে, প্রসাধনসামগ্রীতে এবং বিভিন্ন অ্যারোমাথেরাপি তেলের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর উজ্জ্বল ফুল ও সুবাস প্রজাপতি, মৌমাছি এবং অন্যান্য উপকারী কীটপতঙ্গকে ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে। ফলে এটি আশপাশের জীববৈচিত্র্য ও পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এই প্রজাতিটি খরায় বেশ সহনশীল এবং তীব্র রোদে খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। কম পরিচর্যাতেই দীর্ঘদিন স্থায়ী সৌন্দর্য দেয় বলে শহুরে বাগানপ্রেমীদের কাছে এটি অত্যন্ত অর্থসাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় ।
এই গোলাপি কাঠগোলাপ কেবল বাগান বা টবের সৌন্দর্যবর্ধক কালটিভার নয়, বরং এর চিরসবুজ পাতা, সীমিত আকৃতি এবং মিষ্টি সুবাসিত গোলাপি ফুল একে আধুনিক উদ্যান পালনে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।