পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ অর্থাৎ প্রায় ৮৩ বছর চার মাসের ইবাদতের চেয়েও এই এক রাতের ইবাদতের সওয়াব বেশি। তবে ইসলামী গবেষকদের মতে, এই হিসাব শুধু ফজিলতের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন বা সহিহ হাদিসে এক মিনিট বা এক সেকেন্ড ইবাদতের সমান কত বছরের সওয়াব—এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।
লাইলাতুল কদরের ফজিলতকে জাগতিক সময়ের ফ্রেমে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই রাতে ইবাদত করা জীবনের দীর্ঘ সময়ের আমলনামাকে সমৃদ্ধ করে।
মাত্র ১ মিনিটের জিকির বা প্রার্থনা সাধারণ সময়ের ৫৮ দিনের সমতুল্য।
১ ঘণ্টার গভীর ইবাদত প্রায় ৯.৮ বছরের ইবাদতের সমান নেকি দেয়।
আর পূর্ণ একটি রাত ইবাদতে কাটালে তা ৮৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে করা নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় শবেকদরের রাতে ইবাদত করে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০১; মুসলিম, হাদিস : ৭৬০)
এই সময় শবেকদরের খোঁজে ইতিকাফ করা সুন্নত।অনেক মুসলমান তাই মসজিদে মসজিদে ইতিকাফ করে থাকেন। তারা পার্থিব ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে পুরো সময়টা ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় কাটানোর চেষ্টা করেন।
পরিশেষে, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারে না। কিন্তু শবে কদর এমন একটি সুযোগ, যখন অল্প সময়ের ইবাদতও আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভ করতে পারে।
এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানো একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।