এরই প্রেক্ষিতে আবূ বকর ইবনে খাল্লাদ আল বাহিলী (রহ.), আবূ যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمَنَّانُ الَّذِي لاَ يُعْطِي شَيْئًا إِلاَّ مَنَّهُ وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْفَاجِرِ وَالْمُسْبِلُ إِزَارَهُ ” .
আবূ বকর ইবনে খাল্লাদ আল বাহিলী (রহ.) … আবূ যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ জন্য কথা বলবেন না।
এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের অপরাধের ভয়াবহতা এতটাই গভীর যে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না; এটাই তাদের জন্য চরম লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির পূর্বাভাস। সেই তিন ব্যক্তি হচ্ছে-
প্রথমজন খোঁটা দানকারী : যে ব্যক্তি দান করে উপকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় বা দানকে অপমানের অস্ত্র বানায়। ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘দান যদি আত্মশুদ্ধির পরিবর্তে অহংকার ও মানুষকে ছোট করার মাধ্যম হয়, তবে তা ইবাদত না থেকে গুনাহে পরিণত হয়।
দ্বিতীয় জন মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়কারী : ইমাম ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.) উল্লেখ করেন, এই গুনাহে দুটি অপরাধ একত্রিত হয়; একটি মিথ্যার অপরাধ, অন্যটি মানুষের হক নষ্ট করা। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে বড় গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (ফাতহুল বারী)
তৃতীয় জন অহংকারবশত টাখনুর নিচে ইযার ঝুলিয়ে পরিধানকারী: এখানে মূল অপরাধ কাপড় নয়; বরং অহংকার। ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, “যে কাজ অহংকারের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, তা বাহ্যিকভাবে সামান্য হলেও আখিরাতে ভয়াবহ পরিণতির কারণ হয়।