উচ্চ কোলেস্টেরল একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। এটি হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, কারণ অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ধমনীর ভেতরে জমা হতে পারে, যার ফলে রক্ত সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না। এর ফলে করোনারি আর্টারি ডিজিজ সহ মারাত্মক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগেই এটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা ভালো। এর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা।
কোলেস্টেরল ব্যবস্থাপনায় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
খাদ্যাভ্যাসের কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব রয়েছে। এএইচএ (AHA) জার্নালে উল্লিখিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, আঁশযুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং স্যাচুরেটেড ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত রাখলে এলডিএল (LDL) এবং এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরলের মধ্যে ভারসাম্য উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
হৃদযন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে দ্রবণীয় আঁশ, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। দ্রবণীয় আঁশ বিশেষভাবে উপকারী কারণ এটি পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের সাথে আবদ্ধ হয় এবং রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করার আগেই শরীর থেকে তা অপসারণ করতে সাহায্য করে, যা সময়ের সাথে সাথে এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। দ্রবণীয় আঁশের উৎসের মধ্যে রয়েছে ওটস, বার্লি, শিম, মসুর ডাল, আপেল, বেরি জাতীয় ফল
মৌসুমী ফল ও সবজি বেশি করে খান
স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেছে নিন
সব ফ্যাটই ক্ষতিকর নয়। প্রকৃতপক্ষে, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত হতে পারে। সরিষার তেল, চিনাবাদামের তেল, অ্যাভোকাডো এবং বাদামের মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেন। এই খাবারগুলোতে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। বেশি পরিমাণে মাখন বা ঘি দিয়ে রান্না করার পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করুন। চিপস বা বিস্কুটের পরিবর্তে এক মুঠো লবণবিহীন বাদাম খান, অথবা সালাদ এবং স্যান্ডউইচে কাটা অ্যাভোকাডো যোগ করুন। বাদাম, বীজ এবং তৈলাক্ত মাছ খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন
অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করুন
অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রায়শই অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি এবং অতিরিক্ত লবণ থাকে। কেক, বিস্কুট, বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ভাজা খাবার এবং ফাস্ট ফুডের মতো খাবার গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি তাজা, ঘরে রান্না করা খাবার বেছে নিলে খাদ্যাভ্যাস আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
যেকোনো একটি খাবারের চেয়ে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন কোনো একক সুপারফুড নেই যা নিজে থেকেই কোলেস্টেরল কমাতে পারে। বরং প্রতিদিন সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অনেক বেশি কার্যকর। শস্যদানা, ডাল, ফল, শাক-সবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি, বাদাম, বীজ এবং চর্বিহীন প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে।