খুলনা জেলা প্রতিনিধি: ফাহিম ইসলাম
খুলনার জেলখানা ঘাটের মাঝ নদীতে ফেরির সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি ট্রলারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানিতে ডুবে যায় এবং কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রলারে থাকা যাত্রীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ট্রলার নদী পার হচ্ছিল। জেলখানা ঘাটের মাঝ নদীতে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ফেরির সঙ্গে ট্রলারটির সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রলারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানিতে ডুবে যায়। সংঘর্ষের সময় ট্রলারে থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ট্রলারে একটি মোটরসাইকেল ও চারটি সাইকেল ছিল।
সংঘর্ষের পরপরই স্থানীয় মাঝিরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। পরে নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, ট্রলারে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহন বহনের কারণে ট্রলারটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে অতিরিক্ত যাত্রী বহনই দুর্ঘটনার মূল কারণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দুর্ঘটনার পর জেলখানা ঘাট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় মাঝি, ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশের দ্রুত তৎপরতায় নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় এখনো প্রযন্ত কোনো নিহত, আহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি। ফেরি ও ট্রলারের সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, জেলখানা ঘাটে নৌযান চলাচলের সময় অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহন বহন, নিরাপত্তাবিধি না মানা এবং নৌযানগুলোর চলাচলে পর্যাপ্ত সতর্কতার অভাব থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৌযানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহনের দাবি জানিয়েছেন তারা।