খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
খুলনার জেলখানা ঘাট এলাকায় ফেরির সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলারডুবির ঘটনায় পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর রাকিব খানের মরদেহ বটিয়াঘাটা উপজেলার কাতিয়ানাংলা বাজারসংলগ্ন নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে কাতিয়ানাংলা খেয়াঘাট ও শিয়ালডাঙ্গা ঘাটসংলগ্ন নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রাকিবের বলে শনাক্ত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে নদী পারাপারের সময় এক যাত্রী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে রাকিবের এক আত্মীয় নদীতে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পান। এরপর স্বজন ও স্থানীয়রা একটি ট্রলার নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে কাতিয়ানাংলা বাজারসংলগ্ন নদীতে ভাসমান মরদেহটি দেখতে পেয়ে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন তারা।
পরে বিষয়টি খুলনা নৌ পুলিশকে জানানো হলে নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। স্বজনরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি রাকিবের বলে শনাক্ত করেন।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনার ভৈরব নদে জেলখানা ঘাট ও সেনেরবাজার ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় ফেরির সঙ্গে একটি যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। স্থানীয় নৌযান, ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় অধিকাংশ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। তবে রাকিব নিখোঁজ ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর রাকিবের সন্ধানে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টরা নদীতে তল্লাশি চালান। পরিবারের সদস্যরাও কয়েক দিন ধরে নদীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রলার নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিলেন। ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাকিবের কোনো সন্ধান না পাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাকিবের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে, দুর্ঘটনায় নিখোঁজ থাকা অপর ব্যক্তির সন্ধানে নদীতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।