এই অনুভূতির কারণে মুমিন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হারাম থেকে বিরত থাকে, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জুলুম করে না এবং মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নেক কাজ করে না।
৩. আচরণে আল্লাহমুখী হওয়া : আল্লাহমুখী হওয়া শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের বিষয় নয়, মানুষের অধিকার রক্ষাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে ইহসান (দয়া, অনুগ্রহ ও সদাচার) আবশ্যক করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)
অতএব, পরিবারে কোমল আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সততা, ব্যবসায় প্রতারণা থেকে বিরত থাকা, দুর্বল মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং কারো ওপর জুলুম না করা—সবকিছু আল্লাহমুখী জীবনের অংশ।
৪. দুঃখ ও সুখে আল্লাহমুখী থাকা : আল্লাহমুখী মানুষের বৈশিষ্ট্য হলো সুখে সে অহংকারী হয় না এবং দুঃখে আল্লাহর প্রতি হতাশ হয় না। সুখ পেলে শুকরিয়া আদায় করে, বিপদ এলে ধৈর্য ধারণ করে। কেননা তার হৃদয়ের নির্ভরতা সৃষ্টির ওপর নয়, স্রষ্টার ওপর। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৩)
৫. পরকালকে ইহকালের ওপর প্রাধান্য দেওয়া : আল্লাহমুখী হওয়ার অন্যতম উপায় হলো ইহকালের ক্ষণস্থায়ী জীবন ও স্বার্থের ওপর পরকালের চিরস্থায়ী কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া। মুমিন দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণ করবে, সম্পদ উপার্জন করবে এবং বৈধ আনন্দ উপভোগ করবে; কিন্তু এসব তাকে আল্লাহর আনুগত্য ও আখিরাতের প্রস্তুতি থেকে বিমুখ করবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা দুনিয়ার জীবনকে অগ্রাধিকার দাও; অথচ পরকাল উত্তম ও অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : আ’লা, আয়াত : ১৬-১৭)
তাই আল্লাহমুখী মানুষ দুনিয়ার লাভের জন্য আখিরাতের ক্ষতি স্বীকার করে না। কোনো দুনিয়াবি সুযোগ যদি হারাম হয়, সে তা ত্যাগ করে; আবার কোনো বৈধ দুনিয়াবি কাজ যদি আখিরাতের দায়িত্ব পালনে সহায়ক হয়, সে তা গ্রহণ করে। এভাবেই তার দুনিয়ার জীবন পরকালের প্রস্তুতিতে পরিণত হয়।
সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হওয়ার গুরুত্ব
আল্লাহমুখী জীবন মুমিনের বিশ্বাস ও আমলের মধ্যে সামঞ্জস্য সৃষ্টি করে। তখন মসজিদে যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দা, বাজারেও সে আল্লাহর বান্দা; পরিবারে যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, কর্মক্ষেত্রেও সে একইভাবে আল্লাহকে ভয় করে। তার কাছে হালাল-হারাম মানুষের প্রশংসা বা নিন্দার ওপর নির্ভর করে না। এমন জীবন মানুষকে আত্মপ্রবঞ্চনা, লোক-দেখানো, অহংকার ও প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে। তার জীবনের লক্ষ্য হয় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং তাঁর দেওয়া দায়িত্ব যথাসম্ভব সুন্দরভাবে পালন করা। আর বান্দা যখন সব বিষয়ে আল্লাহমুখী হবে, তখন মহান আল্লাহ তার সে বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : তালাক, আয়াত: ৩)
আল্লাহ সবাইকে সব বিষয়ে তাঁর অভিমুখী হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।