মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে ২২ সেপ্টেম্বরের স্মারকের মাধ্যমে গঠিত সহায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের কথা জানানো হয়।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা চিঠিটি বেসিসের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তবে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে বেসিসের প্রশাসক খদিজা নাজনিন আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন।ফলে কমিটির ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের এখতিয়ার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এ প্রসঙ্গে বেসিসের প্রশাসক খদিজা নাজনিন জানান, সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। সাংবাদিকের কাছ থেকেই তিনি এ বিষয়ে জানতে পেরেছেন।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আপত্তি জানিয়ে ফেরদৌস আলম তাকে সাংবাদিকতা শেখার পর প্রশ্ন করতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।সংবাদ সম্মেলন শেষে বিষয়টি নিয়ে আবার কথা-কাটাকাটি হয়।পরে ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, বেসিস কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ফেরদৌস আলম তার চলার পথে বাধা দেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন।বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তার জবাব
তবে বিটোপিয়া গ্রুপ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের পেছনে একটি পূর্ববর্তী ঘটনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সাংবাদিক পরিচয়ে দুই ব্যক্তি বিটোপিয়া গ্রুপের কার্যালয়ে এসে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেন।
বিটোপিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই দুই ব্যক্তির একজন নিজেকে দৈনিক কালবেলার এবং অন্যজন প্রথম আলোর সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। তিন মাসের জন্য পিআর কার্যক্রম পরিচালনার বিনিময়ে তাদের পক্ষ থেকে ৬০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিটোপিয়া জানায়, এত বড় অঙ্কের অর্থে পিআরের কাজ করাতে তারা আগ্রহী নয় বলে জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
বিটোপিয়ার আরো অভিযোগ, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় বেসিসের সহায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্যকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসব প্রসঙ্গে বিটোপিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে বিটোপিয়া কার্যালয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং পিআর প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার পর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
মনির হোসেন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটা যথাযথভাবে তদন্ত করা হোক। আমরা সব তথ্য-প্রমাণ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন বা অভিযোগ তোলা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে না।