শুধু ডিভাইস নয়, শিক্ষকদের আধুনিক ই-লার্নিং পদ্ধতিতে দক্ষ করতে দেওয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ। ডিজিটাল পেডাগজি ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ ক্লাস পরিচালনার এই প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া ও প্রশিক্ষণ মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক লাখ শ্রেণিকক্ষে বসবে ইন্টারঅ্যাকটিভ এডুকেশন প্যানেল। শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়নের এই কাজে খরচ হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে সব প্রতিষ্ঠানে বসানো হবে ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ, ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক ও ফ্রি ওয়াই-ফাই। শিক্ষার মান তদারকিতে গড়ে তোলা হবে কেন্দ্রীয় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। থাকবে জাতীয় কনটেন্ট রিপোজিটরি এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও ডাটা অ্যানালিটিকস সিস্টেম।
ইন্টারনেট কানেকটিভিটি, ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, এলএমএস-কনটেন্ট রিপোজিটরি এবং মনিটরিং-অ্যানালিটিকস সিস্টেম স্থাপন বাবদ প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রশাসনিক ব্যয় বাবদ থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সম্মানি ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। সাধারণ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে আরো ১৫০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্মার্ট লার্নিং পরিবেশ স্থাপন প্রকল্পটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত শিক্ষা সংস্কারের ৩১ দফা এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের আলোকে এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই নিশ্চিত করা এবং কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি ছিল। এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনের বড় মাধ্যম হতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে চায় সরকার।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এআই ও কোডিং শিক্ষার বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে স্মার্ট ক্লাসরুম ও আইসিটি ল্যাব অপরিহার্য। প্রকল্পে এই বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘আনন্দদায়ক শিক্ষা’ ও ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্তিকরণ’ নীতি বাস্তবায়নে অডিও-ভিজ্যুয়াল ও পারস্পরিক যোগাযোগভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব দূর করতে চায় সরকার। এ বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পকে অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।