সব সময় তীব্র বুকব্যথা নয়
হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ বুকের অস্বস্তি। তবে এই অস্বস্তি সব সময় তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে।বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, চেপে ধরা বা টান ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে। কয়েক মিনিট থাকার পর কমে গিয়ে আবার ফিরে আসতেও পারে।ডা. ত্যাগীর মতে, ব্যথা অসহ্য হওয়ার অপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে অন্য কোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
শ্বাসকষ্টও হতে পারে বড় সংকেত
হঠাৎ অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। সামান্য পরিশ্রমেই অতিরিক্ত হাঁপিয়ে যাওয়া, পুরোপুরি শ্বাস নিতে না পারা কিংবা বিশ্রামের সময়ও শ্বাসকষ্ট হওয়া—এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে।বুকের অস্বস্তি ছাড়াও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
অনেকেই বুক জ্বালা বা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি হলে সেটিকে অ্যাসিডিটি ভেবে অ্যান্টাসিড খান। কিন্তু নতুন বা অস্বাভাবিক ধরনের বুক জ্বালা, ভারী লাগা বা অস্বস্তি শুধু অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
এর সঙ্গে ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, মাথা ঘোরা কিংবা শরীরের অন্য অংশে অস্বস্তি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে বমিভাব, বমি, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা পিঠের নিচের দিকে চাপের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
কী করবেন?
হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে উপসর্গ কমে যাওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে আরামদায়ক অবস্থায় বসতে বা শুয়ে থাকতে হবে। সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে যাওয়া উচিত; নিজে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
ডা. ত্যাগীর মতে, কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসপিরিন উপকারী হতে পারে। তবে অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকলে তা নেওয়া উচিত নয়। তাই এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসাকর্মীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।