সম্প্রতি ওয়েস্ট ইয়ার্ন আমদানি নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এবং স্পিনিং মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।বিষয়টি নিয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, আমদানিকারককে অবশ্যই বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত রপ্তানিমুখী কারখানা হতে হবে। আমদানির আগে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ নিঃশর্ত এবং অব্যাহতি-অযোগ্য ব্যাংক গ্যারান্টি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে। শুল্কমুক্ত কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য সম্পূর্ণ রপ্তানি হওয়ার পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতাদের মূল্যচাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প কাঁচামালের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিটিএমএ বরাবরই দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৬-এর ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে আদেশ জারির তারিখের আগে দায়ের করা বিল অব এন্ট্রির ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তে একদিকে রপ্তানিকারকরা কাঁচামাল সংগ্রহে কিছুটা স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে ব্যাংক গ্যারান্টির শর্তের কারণে স্থানীয় শিল্পের উদ্বেগও আংশিকভাবে প্রশমিত হবে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব কতটা পড়ে, তা নির্ভর করবে আমদানি তদারকি ও শর্ত বাস্তবায়নের ওপর।