বর্তমান সময় অধিকাংশ মানুষই পড়ালেখা নিয়ে যেমন গুরুতর চিন্তিত, একইভাবে ক্যারিয়ার নিয়েও উদ্বিগ্ন থাকেন। বিশেষ করে পড়ালেখার শেষ মুহূর্তে এসে কিভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, চাকরি জীবনের নির্দিষ্ট একটি সময় পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান―এ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
এ কারণে কেউ কেউ কিছুটা বেশি বয়সে এসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায় ক্যারিয়ারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে যথাসময়ে শুরু হয় না। আবার কিছু মানুষ বিয়ে করলেও এরপর ক্যারিয়ারে প্রভাব পড়বে ভেবে দেরিতে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলশ্রুতিতে দেখা যায়, বিয়ের পর কেউ কেউ নানা চেষ্টা করেও মা হতে পারছেন না।আবার কেউ দীর্ঘ সময় পর সন্তান নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি এখন বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে? পুরুষ ও নারী উভয়ই কি এখন ইনফারটিলিটি নিয়ে সচেতন? নারীর বয়সের সঙ্গে কি ইনফারটিলিটির বিষয়টি জড়িত? তাদের জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন এসেছে। চাপযুক্ত জীবন কি তাদের মা হাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা করছে? এমন নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে ভারতের স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ ডা. বাণী কুমার বুস বলেন, এখন অবশ্য আগের থেকে নারী ও পুরুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে।কিন্তু এখনো আমাদের সমাজের স্ট্রাকচার এমন যে, পুরুষরা কখনো ভাবতে পারেন না তাদের সমস্যা থাকতে পারে। পুরুষের পরিবার থেকেও কখনো মনে করে না তাদের ছেলের সমস্যা থাকতে পারে। তাদের সবার ভাবনা―ছেলের বউর-ই সমস্যা।
এ চিকিৎসক বলেন, শিক্ষার প্রসারের কারণে এখন অনেক মানুষ সচেতন হচ্ছেন। এখন সবাই জানতে পারছেন, সমস্যা শুধু নারীর নয়, পুরুষেরও হতে পারে।তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যা বাড়ছে। নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা বেশ বয়সে এসে বিয়ে করছেন কিংবা ফ্যামিলি টাইমের জন্য দেরিতে সন্তান নিচ্ছেন। এটি বিভিন্ন কারণেই হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বা নানা কারণেই তাদেরও এই সমস্যা বেড়েছে।
এ ছাড়া ডা. বাণী কুমার বলেন, নারীর বয়সের সঙ্গে বন্ধ্যত্বের সমস্যা গভীরভাবে যুক্ত। এ কারণে তাদের প্রি-প্রেগন্যান্সি বা কাউন্সিলিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। নারীর মা হওয়ার আদর্শ বয়স হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর। এরপর মা হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে। ৩৫ বয়সের পর সেই হার আরো কমে যায়। আর ৪০-এর পর সেই হার ১ থেকে ৪/৫ শতাংশে নেমে যায়।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..