এ আইনে ডিস্টেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খেলাপি সম্পদ শনাক্ত, তথ্য সংগ্রহ, সম্পদ উদ্ধার এবং আইনিব্যবস্থা সমন্বয়ের কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে বাধ্য করা হবে।
ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা কম্পানি হিসেবে কাজ করতে চাইলে অবশ্যই ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের (ডিএমইউ) লাইসেন্স নিতে হবে। এ ছাড়া কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত এবং নির্ধারিত পরিশোধিত মূলধন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, অভিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদ এবং ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। প্রতিটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অন্তত ২০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক রাখার বিধান থাকছে। তারা কোম্পানির মালিক বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনো আর্থিক স্বার্থে জড়িত থাকতে পারবেন না।
নিবন্ধিত ‘ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা কম্পানি’ (ডিএএমসি) কার্যক্রম পরিচালনার সময় অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, প্রতারণা বা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তদন্তের পর তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগও থাকবে।
এ কম্পানি দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। যেমন— ঋণগ্রহণ; শেয়ার ও বন্ড ইস্যু; যৌথ বিনিয়োগ; সিকিউরিটাইজেশন; বিদেশি বিনিয়োগ। তবে কোনো ব্যাংক বা ফিন্যান্স কম্পানি থেকে সরাসরি ঋণ বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, যাতে স্বার্থের সংঘাত না ঘটে।
খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার আরো পেশাদার করতে এলএসসি গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আলোচনা, পুনঃ তফসিল, সম্পদ অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ, আদালতসংক্রান্ত সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ঋণ পুনরুদ্ধারে কাজ করবে। তবে তারা নিজ নামে মামলা, জনগণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ এবং কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক বা বেআইনি উপায়ে ঋণ আদায় করতে পারবে না।