বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের উন্নয়ন, জরুরি পরিষেবা প্রদান এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে ডাকব্যবস্থার সার্বিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।আজ শুক্রবার বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত এক বিশেষ বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘ডাকব্যবস্থা শুধু চিঠি পৌঁছে দেওয়ার কোনো মাধ্যম নয়; বরং এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ স্থাপন এবং জীবনের প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অবকাঠামো।
জাতিসংঘ মহাসচিব জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ডাকঘর এবং প্রায় ৪৬ লাখ কর্মী প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিশীল রাখতে নিয়োজিত রয়েছেন। ডাক নেটওয়ার্ক বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত ভূমিকা রাখছে।
চলতি বছরের প্রতিপাদ্য—‘একটি ডাক নেটওয়ার্ক, অসীম সম্ভাবনা’—ডাক ব্যবস্থাকে বহুমাত্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবার এক সমন্বিত একক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উপস্থাপন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।ডিজিটাল রূপান্তরের যুগেও ডাক ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, তরুণদের ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পরিবারের ভার্চ্যুয়াল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা কিংবা প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানোর মতো নানা নাগরিক সেবায় ডাকব্যবস্থা এখন সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদার।
তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির মধ্যেও ডাকসেবার প্রধান শক্তি হলো সরাসরি মানবিক উপস্থিতি। ঘরে ঘরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ঐতিহ্য সমাজ ও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখছে।
ডাকব্যবস্থাকে বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যতম প্রাচীন ও সফল নিদর্শন উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ডাক বিভাগ বার্তা, জরুরি পণ্য ও ওষুধ মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিতে সক্ষম হচ্ছে।বিশ্ব ডাক দিবসে বিশ্বব্যাপী নিয়োজিত সর্বস্তরের ডাককর্মী এবং সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) অনন্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..