মানবদেহে একটি স্বাভাবিক ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ছন্দ রয়েছে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম বলা হয়। এটি ঘুম ও জাগরণের সময়, হরমোন নিঃসরণ, শরীরের তাপমাত্রা, বিপাকক্রিয়া এবং সতর্ক থাকার মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময় অনেকটা বদলে গেলে শরীরের এই অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সঙ্গে দৈনন্দিন কাজকর্মের সমন্বয় ব্যাহত হতে পারে। যেমন—কর্মদিবসে সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠলেও ছুটির দিনে সকাল ৯টা বা ১০টায় ওঠার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন আনতে পারে।
ঘুমের সময় নিয়মিত না হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং কাজে অনীহা দেখা দিতে পারে। মোট ঘুমের সময় পর্যাপ্ত হলেও ঘুম ও জাগরণের সময়ের অনিয়মের কারণে শরীর সতেজ বোধ না-ও করতে পারে।এতে কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা এবং দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ঘুমের সঙ্গে ক্ষুধা, পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের সম্পর্ক রয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার সময় নিয়মিত বদলালে ক্ষুধা ও খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে মিষ্টি বা বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়তে পারে। মেজাজেও ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
মাঝেমধ্যে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। বরং প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার সময়ে বড় ধরনের পার্থক্য নিয়মিত ঘটলে তা ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়ার সংকেত হতে পারে।
ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে প্রতিদিন, এমনকি ছুটির দিনেও, কাছাকাছি সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা ভালো। কর্মদিবস ও ছুটির দিনের ঘুম থেকে ওঠার সময়ের ব্যবধান ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখা উচিত। পাশাপাশি ঘুমানোর সময়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও জরুরি।সুস্থ ঘুমের জন্য শুধু কখন বিছানায় যাচ্ছেন, তা নয়—কখন ঘুম থেকে উঠছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ঘুম ও জাগরণের সময় যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখলে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।