মস্তিষ্কের সুস্থতা শুধু স্মৃতিশক্তি বা বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ঘুম, মানসিক চাপ, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং নিয়মিত মানসিক চর্চার মতো দৈনন্দিন অভ্যাসও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মস্তিষ্কের সুস্থতা শুধু স্মৃতিশক্তি বা বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ঘুম, মানসিক চাপ, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং নিয়মিত মানসিক চর্চার মতো দৈনন্দিন অভ্যাসও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভিশন অব হেলথ’ পডকাস্টে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন ডা. বেগেটি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত কাজ, মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব মস্তিষ্কের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
স্বল্পমেয়াদি চাপ অনেক সময় সতর্কতা ও কাজের সক্ষমতা বাড়াতে পারে।তবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মস্তিষ্কের আবেগ, স্মৃতি ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশে প্রভাব ফেলতে পারে।ডা. বেগেটির মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে কিছু মানুষের স্মৃতি ও মনোযোগে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে যে তাদের স্মৃতিভ্রংশের আশঙ্কা তৈরি হয়। স্ট্রেসের সঙ্গে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনও এর সঙ্গে যুক্ত।
অনেকের ধারণা, প্রতিদিন ঠিক ৮ ঘণ্টা ঘুমই আদর্শ।তবে ডা. বেগেটি বলছেন, ঘুমের প্রয়োজন ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। কারও ৬ বা ৭ ঘণ্টা ঘুমেই যথেষ্ট বিশ্রাম হতে পারে, আবার কারও ১০ বা ১১ ঘণ্টাও প্রয়োজন হতে পারে।তার পরামর্শ, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা। এতে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
সকালে সম্ভব হলে কিছু সময় বাইরে প্রাকৃতিক আলোতে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাইরে থাকা শরীরের ঘুম ও জাগরণের ছন্দ ঠিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।
অ্যালকোহল মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী সেরিবেলাম এবং সিদ্ধান্ত ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে যুক্ত প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সও রয়েছে।
ডা. বেগেটি অ্যালকোহলকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এটি নিয়মিত অভ্যাসের বদলে মাঝে মধ্যে রাখাই ভালো।
বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে নতুন কিছু শেখা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন, শখের কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখার মতো কর্মকাণ্ড মস্তিষ্ককে মানসিকভাবে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
এ ধরনের মানসিক চর্চা ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ তৈরি করতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। এটি বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের সক্ষমতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে কোনো একটি অভ্যাসই ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না। পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত মানসিক চর্চা মস্তিষ্কের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সবশেষে ডা. বেগেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সুস্থ থাকার চেষ্টা যেন নিজেই মানসিক চাপের কারণ না হয়ে যায়। তার মতে, মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ভালোভাবে জীবন উপভোগ করা—প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা নয়।