কিডনির দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূত্রনালির সংক্রমণ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিসসহ নানা কারণে নারীদের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর সঙ্গে অনেক নারী প্রস্রাব বা মূত্রনালিসংক্রান্ত সমস্যাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়।
নারীদের কিডনি রোগের ঝুঁকি কেন বেশি?
গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম বড় কারণ। অনেকের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলেও তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন না। পরে রোগ শনাক্ত হওয়ার সময় কিডনিসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক নারী গুরুতর অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। ফলে কিডনি রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়।
নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পাশাপাশি লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত জাঙ্ক খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি না পান করাও কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা এবং বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ হলেও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর সঙ্গে অপর্যাপ্ত পুষ্টি, কম ঘুম, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।
যে ৫ লক্ষণ অবহেলা করবেন না
১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া
ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া এবং প্রায়ই এমন হওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে এ ধরনের ফোলা দেখা দিতে পারে।
২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
দিনের শেষে কিংবা দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর পা ও গোড়ালি ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার কারণেও এমন হতে পারে, যার সঙ্গে কিডনির সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
৩. অস্বাভাবিক পেশির ব্যথা
কিডনি শরীরে বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পেশিতে ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সারা শরীরে তীব্র ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ
কিডনির কার্যকারিতা গুরুতরভাবে কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। কখনো তা ফুসফুসেও জমে শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন
রাতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাব হওয়া, আবার কখনো আগের চেয়ে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া—দুটিই খেয়াল করার মতো বিষয়। এ ছাড়া প্রস্রাব অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত হওয়া কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে কিডনি রোগ হয়েছে, তা নয়। অন্য অনেক কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই লক্ষণগুলো বারবার দেখা দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।