প্রিয় শিক্ষার্থী, তুমি পরীক্ষায় ফেল করেছ—এটা একটি ফলাফল।
ফল খারাপ হয়েছে বলে কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। চোখে পানি আসতে পারে। বাবা-মায়ের সামনে দাঁড়াতে লজ্জা লাগতে পারে। বন্ধুদের ভালো ফল দেখে নিজের প্রতি খারাপ লাগতে পারে। আর রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনের জীবন সম্পর্কে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মুমিনের ব্যাপারটি আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সে সুখ লাভ করলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে—এটি তার জন্য কল্যাণকর। আর বিপদে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে—এটিও তার জন্য কল্যাণকর।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৯৯)
অভিভাবকের করণীয়
প্রিয় অভিভাবক, আপনার সন্তান ফলাফলে ব্যর্থ হয়েছে বলে তাকে ব্যর্থ মানুষ বানিয়ে দেবেন না। এই মুহূর্তে হয়তো আপনারও কষ্ট হচ্ছে। আপনি সন্তানের জন্য স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার সন্তানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এখন আপনার ভালোবাসা, ধৈর্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা। তাকে অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না। ‘ও গোল্ডেন এ প্লাস পেল, তুমি পারলে না কেন?’ —এই কথাটি হয়তো তার ভেতরের কষ্টকে আরও গভীর করে দেবে। বরং বলুন— ‘ফলাফল খারাপ হয়েছে, সমস্যা নেই। আমরা আবার শুরু করব। কোথায় ভুল হয়েছে, সেটা খুঁজে বের করব। তুমি চেষ্টা করো, আমরা তোমার পাশে আছি।’ একটি কোমল বাক্য হয়তো একজন ভেঙে পড়া সন্তানের জীবনকে আবার দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।
প্রিয় শিক্ষার্থী, তোমার জন্য করণীয় হলো-
১. আল্লাহর ওপর ভরসা করো।
২. নিজের ভুল স্বীকার করো।
৩. নতুন পরিকল্পনা তৈরি করো।
৪. মোবাইল ও অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা নিয়ন্ত্রণ করো।
৫. দুর্বল বিষয়গুলোতে বেশি সময় দাও।
৬. প্রয়োজন হলে শিক্ষক ও অভিভাবকের সহযোগিতা নাও।
৭. নিয়মিত পড়াশোনা, নামাজ, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির অভ্যাস গড়ে তোলো।
আল্লাহ চেষ্টা দেখেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষ তাই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩৯)
তাই এবার তোমার লক্ষ্য হোক শুধু ‘পাস করা’ নয়; বরং নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যেন আগামীবার তুমি নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিতে পারো। আজকের ব্যর্থতা যদি তোমাকে আরও পরিশ্রমী, শৃঙ্খলাবদ্ধ, বিনয়ী ও আল্লাহমুখী করে তোলে, তবে এই ব্যর্থতাই একদিন তোমার জীবনের একটি মূল্যবান শিক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। তাই হতাশ হয়ো না। আবার শুরু করো। তোমার সামনে এখনো অনেক পথ বাকি।