‘জীবনে নরওয়ের কোচের মতো আত্মবিশ্বাস দরকার। তিনি ফ্রান্সের বিপক্ষে ‘বি’ দল নামিয়েছেন’—নরওয়ের কোচ স্তল সোলবাকেনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই ট্রল করা হচ্ছে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম আর্লিং হালান্ড, উসমান দেম্বেলে বনাম মার্টিন ওডেগার্ডের লড়াই দেখার জন্য যারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, তাদের আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন সোলবাকেন। বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে কাল রাতে দ্বিতীয় সারির দল খেলিয়েছেন তিনি।
হালান্ড, ওডেগার্ড, সরলথ, নিলান্ডসহ ১০ পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নেমেছিল নরওয়ে। ম্যাচের ফলও যা হওয়ার তাই হয়েছে।
দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স।
Norway
ফ্রান্সের বিপক্ষে নরওয়ের শীর্ষ ১০ ফুটবলার খেলেননি। ছবি: সংগৃহীত
‘আই’ গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে ফ্রান্স। নরওয়ে হয়েছে গ্রুপের রানার্সআপ।
এখন প্রশ্ন হলো, গ্রুপসেরা হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ থাকলেও কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিলেন সোলবাকেন?
এর কারণ মূলত তিনটি—
[১] আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়া: ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে আগেই রাউন্ড অব ৩২ পর্বে উঠে যাওয়ায় হালান্ড-ওডেগার্ড-সরলথদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রেখেছেন নরওয়ে কোচ।
[২] তারকাদের ক্লান্তি ও চোট থেকে রক্ষা: সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় হালান্ড-ওডেগার্ড-সরলথদের চোটের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন সোলবাকেন। তা ছাড়া হালান্ডরা আরো কিছু দিন বিশ্রাম পেলে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে পুরোপুরি চাঙা হয়ে খেলতে পারবেন।
[৩] সহজ প্রতিপক্ষ বেছে নেওয়ার কৌশল: নকআউট পর্বের শুরুতে কঠিন প্রতিপক্ষ এড়াতে চেয়েছিল নরওয়ে। ‘আই’ গ্রুপে রানার্সআপ হওয়ায় রাউন্ড অব ৩২-এ তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল আইভরি কোস্ট।
অন্যদিকে ফ্রান্স গ্রুপসেরা হয়ে পেয়েছে সুইডেনকে। যদিও ফিফা র্যাংকিং বলছে ভিন্ন কথা। এই মুহূর্তে সুইডেনের (৩৬) চেয়ে ছয় ধাপ এগিয়ে আছে আইভরি কোস্ট (৩০)।