তবে পবিত্র কোরআনে জান্নাতের নেয়ামতের বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেখানে থাকবে সমবয়সী সঙ্গিনীরা।’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ৫২)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘আমি জান্নাতি নারীদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব, আমি তাদের বানাবো কুমারী, প্রেমময় ও সমবয়সী।’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৩৫–৩৮)
তাফসিরবিদরা উল্লেখ করেছেন, এখানে ‘সমবয়সী’ হওয়ার বর্ণনা জান্নাতের পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্য ও পারস্পরিক সামঞ্জস্যের একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে এসেছে। তবে এটি পৃথিবীতে বিয়ের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়। বরং এটি দাম্পত্য জীবনে মানসিক ও আচরণগত সামঞ্জস্যের গুরুত্বের প্রতি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত বহন করে।
একটি ঘটনা
বিশিষ্ট সাহাবি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর ঘটনা একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী (সা.)- তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি কি কুমারী মেয়েকে বিয়ে করতে পারতে না, তাহলে তোমরা একে অপরের সঙ্গে হাসি-আনন্দ করতে?’ জাবির (রা.) বলেন যে, তাঁর ছোট ছোট বোনদের দেখাশোনার জন্য অভিজ্ঞ একজন নারীকে বিয়ে করাই তাঁর জন্য অধিক উপযুক্ত ছিল। তখন মহানবী (সা.) তাঁর এই বাস্তব কারণকে সমর্থন করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৭৫৮)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নবী (সা.) সাধারণ অবস্থায় বয়স ও মানসিক সামঞ্জস্যকে পছন্দ করলেও বাস্তব প্রয়োজন, দায়িত্ব ও কল্যাণের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
ইসলামের শিক্ষা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। সাধারণভাবে স্বামী-স্ত্রীর বয়স কাছাকাছি হলে পারস্পরিক বোঝাপড়া, মানসিক মিল এবং দাম্পত্য জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা অনেক ক্ষেত্রে সহজ হতে পারে। অনেক সমাজে স্বামীর বয়স স্ত্রীর চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়াও প্রচলিত ও বাস্তবসম্মত বলে বিবেচিত হয়। তবে এগুলো কোনো শরিয়তসম্মত বাধ্যবাধকতা নয়। যদি উভয় পক্ষ দ্বীনদার, পরিপক্ব, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হন, তাহলে স্ত্রীর বয়স বেশি হওয়া বিয়ের বৈধতা বা সফলতার পথে কোনো বাধা নয়।
অতএব, বিয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক কুসংস্কার বা প্রচলিত ধারণাকে নয়; বরং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন মুসলমানের কর্তব্য। বয়স নয়, বরং ঈমান, উত্তম চরিত্র, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহভীতি—এসবই একটি সুখী, স্থায়ী ও বরকতময় দাম্পত্য জীবনের প্রকৃত ভিত্তি।