ঐতিহাসিক এই স্থান থেকেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ছবির পর একটি সেলফি ভিডিও শেয়ার করেন এবং সেখানে উষ্ণ স্বাগত বার্তাও যোগ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লাখ লাখ ভিউ অতিক্রম করে ফেলে।
এরপরই নেট দুনিয়ায় যেন শুরু হয় ‘মেলোডি’ ঢেউ। ব্যবহারকারীরা এই জুটির কেমিস্ট্রি ঘিরে মিম, কৌতুক আর নানা ধরনের প্রতিক্রিয়ায় কমেন্ট সেকশন ভরিয়ে তোলেন। অনেকে এটিকে তাদের জনপ্রিয় ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের নতুন অধ্যায় হিসেবে উদযাপন করেন। মুহূর্তটিকে আরো রঙিন করে তোলে মোদির একটি হালকা মেজাজের অঙ্গভঙ্গি।
ভাইরাল হওয়া এই ট্রেন্ডকে ইঙ্গিত করে তিনি মেলোনিকে ভারতের জনপ্রিয় মেলোডি টফির একটি প্যাকেট উপহার দেন, যা উপস্থিতদের মুখেও হাসি ফোটায়। পরে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে একটি ছোট ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে নরেন্দ্র মোদিকে সেই টফির প্যাকেট হাতে ধরে থাকতে দেখা যায়। দুই নেতার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি ও হালকা রসিকতাময় মুহূর্তটি দ্রুতই অনলাইনে সবচেয়ে বেশি শেয়ার হওয়া রাজনৈতিক ক্লিপগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
২০২৩ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সময় নরেন্দ্র মোদি ও জর্জিয়া মেলোনির হাস্যোজ্জ্বল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেই দুই নেতার নাম মিলিয়ে তৈরি হয় ‘Melodi বা মেলোদি’ শব্দটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম ও বিভিন্ন মিম পেজে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই শব্দ।
পরে ২০২৪ সালের জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি নিজেই মোদির সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করে হ্যাশট্যাগ (#Melodi) ব্যবহার করলে বিষয়টি আরো ভাইরাল হয়ে যায়। সাধারণত রাজনৈতিক মিম দ্রুত হারিয়ে গেলেও এই ‘মেলোদি’ মিম টিকে যায়।
১৯৮৩ সালে ভারতের বাজারে সাধারণ ক্যারামেল টফি চকোলেট হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল ‘মেলোডি’। চার দশকের বেশি সময় পর সেই এক টাকার টফিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ইন্টারনেট সংস্কৃতির আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্সে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন।
ভাইরাল মুহূর্তগুলো ছাড়াও, এই সফরের একটি বড় কূটনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। ভারত ও ইতালি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো গভীর করতে চাইছে। উভয় দেশই ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর-সম্পর্কিত প্রকল্পের মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মোদি-মেলোনির বন্ধুত্ব আধুনিক ডিজিটাল কূটনীতির এক শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আজকের বিশ্বে, আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বিবৃতির চেয়ে সেলফি এবং ছোট ভিডিওর মাধ্যমে জনমত প্রায়ই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই দুই নেতা এই পরিবর্তন সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন বলে মনে হচ্ছে এবং তাদের ঘিরে তৈরি হওয়া অনলাইন আলোচনাকে তারা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই গ্রহণ করছেন।
মজার বিষয় হলো, এই জুটি এই প্রথমবার জনদৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। জি৭ শীর্ষ সম্মেলন এবং এর আগের আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানগুলোতে মোদি ও মেলোনিকে নিয়ে তোলা ছবি ও ভিডিও ধারাবাহিকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
এই সফরে মোদি তার স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে মেলোনিকে অভিবাদন জানান এবং আলাপচারিতার সময় ইতালীয় প্রধানমন্ত্রীকেও সমানভাবে স্বচ্ছন্দ ও প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা তাদের বন্ধুত্বকে আজকের বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম সহজবোধ্য এবং সতেজ কূটনৈতিক সমীকরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্সে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছেন। মোদি তার পাঁচ দেশের সফরের অংশ হিসেবে নরওয়ে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেন সফর করেছেন। বর্তমানে তিনি এই সফরের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।