
তবে দাম্পত্য ভাঙনের জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী করতে চান না এই অভিনেত্রী। মীমের কথায়, ‘কাউকে দোষ দেব না। হয়তো আমিও দোষী, সে-ও দোষী। এক হাতে তো তালি বাজে না। আমাদের সমাজে অনেকে একসাথে থেকেও একসাথে থাকে না। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, বেঁচে থাকতে হলে নিজের মতো করেই বাঁচতে হবে।’
সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় শ্বশুরবাড়ির ইচ্ছাকে সম্মান করে ক্যারিয়ারের সুসময়ে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন মীম। কিন্তু তাতেও শেষ পর্যন্ত টেকেনি দাম্পত্য।
অভিনয় ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিনয় থেকে সরে আসার পেছনে শুধু এটাই একমাত্র কারণ ছিল তা না। তবে বিষয়টা মেনে নিয়েছিলাম। প্রত্যেকটা মানুষেরই নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ থাকে, তাই ধরে নিয়েছিলাম হয়তো অভিনয়টা তাঁদের কাছে খুব একটা পছন্দের জায়গা ছিল না। তাঁদের পছন্দকে সম্মান জানিয়েছিলাম। এ নিয়ে অনেক সময় মন খারাপ হয়েছে; কিন্তু খুব বেশি কথা বলিনি। কখনো কারো সঙ্গে ঝামেলা হয়নি। তাঁদের সিদ্ধান্তকে সব সময় সম্মানের চোখে দেখেছি।’

বিচ্ছেদের কঠিন সময়ে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া মানসিক সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন মীম। তিনি বলেন, ‘যেদিন ডিভোর্সের সাইনটা করি, সেই সময় রোজার মাস ছিল। আমার হাত কাঁপছিল। খুব ভয় লাগছিল। কিন্তু আমার বাবা-মা এবং বোন আমাকে যে মানসিক সাপোর্ট দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। সেদিন রাতে বাবা বললেন, ‘চল, বাইরে সাহরি খাব।’ আমাকে স্বাভাবিক করতে তারা সবাই আমার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর পরিবারের মানসিক পরিবর্তনের জন্য সবাইকে নিয়ে প্রায় আড়াই মাস আমেরিকায় কাটাই।’
মিডিয়ার তারকাদের বিয়ে ও বিচ্ছেদকে সমাজের একাংশ যেভাবে দেখে, তা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন মীম। সম্প্রতি তার বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়েও নানা রকম ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী।
বুধবার দুপুরের কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে সাবরীন সাকা মীম বলেন, ‘কিছু কিছু বিষয় দেখে খুব খারাপ লেগেছে। সাক্ষাৎকারটি যারা দেখেছেন, তারা বুঝবেন। আমি যা বলার বলে দিয়েছি, কিন্তু যা নয় তা বলে এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও বানিয়ে নানা রকম ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি নাকি মোটা হয়ে গেছি, এ জন্য বিয়ে ভেঙে গেছে, আমি নাকি কান্নাকাটি করেছি। এসব ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। হয়তো এটা করলে তাদের ভিউ বাড়ছে, আয় বাড়ছে; এ জন্যই এরকমটা করছেন। বিষয়টি আমার জন্য বিব্রতকর।’
মীমের কথায়, ‘অনেকে খুব সহজে বলে ফেলেন— মিডিয়ার মেয়েদের বিয়ে, বিচ্ছেদ নাকি কোনো ব্যাপারই না! কিন্তু এই সিদ্ধান্তের জন্য কত লম্বা সময় ধরে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, কত সংগ্রাম করতে হয়, তা অনেকে বোঝেন না। সংসার ভাঙনের কষ্ট একজন সাধারণ মেয়ে আর একজন মিডিয়ার মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’
ভবিষ্যতে নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়েও নিজের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন মীম। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমার দ্বারা আর হবে না।’
বলা দরকার, ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়ে ২০১২ সালের পর হঠাৎ করেই নাটকে অভিনয় বন্ধ করে দেন মীম। তবে এই সিদ্ধান্ত যে আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল না, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
এরপর ২০১৩ সাল থেকে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন তিনি। বেশ ভালোভাবেই চলছিল সেই পথচলা। তবে ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের মহামারি তাঁর সেই ক্যারিয়ারেও ছেদ টানে।