মিজানুর রহমানের দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে। তবে চিকিৎসার ব্যয় ও পারিবারিক সংকটের কারণে সেই ব্যবস্থা করতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেছেন মিরাজ।
তিনি বলেন, ‘আব্বুর খুব দ্রুত সার্জারি করা প্রয়োজন। আমরা কোনোভাবেই কোনোকিছু সামলে উঠতে পারছি না। সবার সহযোগিতা চাইছি আমার আব্বুকে সুস্থ করে তোলার জন্য। এমনকি সরকারের সহযোগিতাও কামনা করছি। আমার আব্বু চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য এত কিছু করেছেন, তার পাশে তো সবারই থাকা উচিত।’
শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আগে অভিনেতা জয় চৌধুরী কয়েকজন ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমানের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মিরাজ। সে সময় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পাননি বলে অভিযোগ তার।
মিরাজ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে উনি এসেছিলেন। কয়েকজন ইউটিউবার সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। জানিয়েছিলেন কোনো সহযোগিতা লাগলে উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এরপর উনার সঙ্গে আমি অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। প্রায় তিন মাস যোগাযোগ করার পর তিনি অল্প কিছু টাকা দিয়েছিলেন। এটাকে তো সহযোগিতা বলে না।’
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য সিনেমায় কাজ করেছেন মিজানুর রহমান মিজান। রাজ্জাক-শাবানার সময় থেকে শুরু করে শাকিব খানের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা হাজারেরও বেশি বলে জানিয়েছেন মিরাজ। অভিনয়ের পাশাপাশি কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মিজান। বহু মানুষকে চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। শাকিব খান যে বছর শিল্পী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন, সে সময় নবগঠিত সহশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মিজানুর রহমান।
অভিনয়ের বাইরে ২০১১ সালে ‘আমরাও মানুষ’ শিরোনামে একটি সিনেমা প্রযোজনা করেছিলেন মিজান। প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ করলেও সেই ছবিটি আর মুক্তি দিতে পারেননি। দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র অঙ্গনে অবদান রাখা এই অভিনয়শিল্পীর অসুস্থতার খবরে তার চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ছেলে মিরাজ। এখন বাবার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই তাদের পরিবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।