বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—এই তিন আয়োজক দেশের তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যা বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।
একসময় একটি দেশ, একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান—এটাই ছিল বিশ্বকাপের প্রচলিত রীতি। ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে আয়োজন করলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল কেবল সিউলে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ধারারও পরিবর্তন এসেছে। তিন আয়োজক দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আলাদা আলাদা আয়োজন করেছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি, আর তার ৯০ মিনিট আগে রাত ১১টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
এ ছাড়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পীদের মধ্যে আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস, মানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার টাইলা মঞ্চে পারফর্ম করবেন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধন উপলক্ষে মেক্সিকো সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। স্কুল বন্ধ, সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ এবং বিশেষ ছুটির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কানাডার আয়োজনে নোরা ফাতেহি
কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে টরন্টো স্টেডিয়ামে, যেখানে স্বাগতিক কানাডা খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে অনুষ্ঠান, আর ম্যাচ শুরু হবে রাত ১টায়।
কানাডার ইতিহাস ও গৌরবময় মুহূর্তগুলোকে তুলে ধরতে একটি বিশেষ কাউন্টডাউনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়, ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্সসহ আরও অনেকে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে তারকাদের ঝলক
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান এবং সকাল ৭টায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে।
বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও গল্পভিত্তিক মঞ্চায়নের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা ও টাইলারের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।
এক থিমে তিন আয়োজন
মেক্সিকো, টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেস—তিন শহরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও উপস্থাপনা আলাদা হলেও মূল বার্তা একটাই। সংস্কৃতি, সংগীত ও ফুটবলের মাধ্যমে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বিভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতোয় গাঁথার শক্তিকেই তুলে ধরা হবে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে।
বিশ্বকাপের তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রযোজনার দায়িত্বে আছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযোজক মার্কো বালিচ। এর আগে তিনি একাধিক অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জানান, প্রতিটি শো আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করলেও সবগুলোই ফুটবলের ঐক্যের বার্তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।