গতকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মুগদা থানা পুলিশের একটি দল যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল ও ডেমরা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি জামালপুরের ব্যবসায়ী মো. মুন্না মিয়া (৪০) ঢাকা থেকে ১০ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়ামের মালামাল (সার্কেল, পাতিল ও কেতলি) কিনে একটি মিনি পিকআপে (ঢাকা মেট্রো-ন-১৭-৯২৫৮) করে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
ওই গাড়ি থেকে ৮-১০ জন ব্যক্তি নেমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান। চালক আল আমিন (২৬) কাগজপত্র দেখালে তাকে এবং ব্যবসায়ী মুন্না মিয়াকে জোরপূর্বক নামিয়ে ডাকাতদের গাড়িতে তুলে চোখ-হাত বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তাদের মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে খিলগাঁও ফ্লাইওভারে ফেলে দিয়ে পণ্যবোঝাই পিকআপ নিয়ে তারা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মুন্না মিয়া বাদী হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি মুগদা থানায় একটি ডাকাতি মামলা (মামলা নম্বর-০৬) দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই (নিরস্ত্র) মো. সাখাওয়াত হোসেন। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের দলটি যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকার ‘নজরুল বডি বিল্ডার্স’ নামক গ্যারেজে অভিযান চালায়। সেখানে ডাকাতি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তিতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেমরার বড়ভাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. কাদির (৫০) ও মো. হাসান আলীকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুনরায় মাতুয়াইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ৩টি বড় অ্যালুমিনিয়ামের ডেক-পাতিল, একটি কলস ও একটি জগ উদ্ধারসহ ডাকাত দলের আরো তিন সদস্য মো. আব্দুল হালিম (৩০), মো. মামুনুর রশিদ (৪২) ও মো. নয়ন বেপারীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ ডাকত দলের সক্রিয় সদস্য। দলটি দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে কালো রঙের হাই-এস গাড়ি ব্যবহার করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করে আসছিল।