তাই কথাবার্তা এমন হতে হবে, যাতে তা ভদ্রতা ও প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম না করে এবং কোনো ধরনের মানসিক ফিতনার কারণ না হয়। ইসলাম নারী-পুরুষের নির্জন অবস্থানকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
অতএব, যদি কোনো নারী বাড়িতে একা থাকে এবং সেখানে কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ অবস্থান করে, তাহলে এমন পরিবেশ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যদি ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তবে সেখানে অবস্থান করা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। ইসলাম নারীদের বন্দি করতে চায় না; আবার লাগামহীন মেলামেশার স্বাধীনতাও দেয় না। বরং সম্মান, নিরাপত্তা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেয়। পরপুরুষের উপস্থিতিতে একজন মুসলিম নারীর আচরণ হওয়া উচিত মার্জিত, সংযত ও শরীয়তসম্মত। মেহমানদারী করা নিঃসন্দেহে উত্তম আমল; তবে তা অবশ্যই পর্দা, শালীনতা ও নিরাপত্তার সীমার মধ্যে হতে হবে। প্রয়োজনীয় কথা বলা, পর্দার আড়াল থেকে খাবার পৌঁছে দেওয়া বা সীমিত ব্যবস্থাপনা করা বৈধ হলেও নির্জন অবস্থান, অপ্রয়োজনীয় আলাপ কিংবা ফিতনার আশঙ্কাজনক পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। আর বর্তমান যুগে পর্দার বিধানকে অনেকেই সংকীর্ণতা মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি নারী-পুরুষ উভয়ের হৃদয়ের পবিত্রতা, পারিবারিক নিরাপত্তা এবং সমাজের নৈতিক ভারসাম্য রক্ষার এক মহান ব্যবস্থা। তাই প্রত্যেক মুসলিম পরিবারের উচিত, ইসলামের এই সুন্দর আদর্শকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ঘরকে পবিত্রতার দুর্গে পরিণত করা। (আদ দুররুল মুখতার, রাদ্দুল মহতার, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ৫২৯-৫৩০)