ছোট-বড় অনেকেরই অবচেতন মনে নখ কামড়ানোর অভ্যাস থাকে। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। নখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য জীবাণু সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে সৃষ্টি করতে পারে জটিল রোগ।
কেন নখ কামড়ানো বিপজ্জনক?
নখের ময়লায় এমন কিছু ক্ষতিকর জীবাণু থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না।
নখ কামড়ানোর ফলে যেসব সমস্যা হতে পারে :
জীবাণু সংক্রমণ : ই-কোলাই, সালমোনেল্লা ও স্ট্যাফাইলোকক্কাসের মতো ভয়াবহ ব্যাকটেরিয়া নখ থেকে পেটে গিয়ে সংক্রমণের সৃষ্টি করে।
ভাইরাস ও কৃমি : সর্দি-কাশির অ্যাডিনোভাইরাস ও পিনওয়ার্মের মতো কৃমির ডিম নখের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে পড়ে।
আঙুলের ক্ষত : নখের পাশের চামড়া ছিঁড়ে রক্ত জমে পুঁজ হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিদ্যায় ‘প্যারোনাইকিয়া’ বলা হয়।
দাঁতের ক্ষতি : বারবার নখ কামড়ানোর ফলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যায় এবং মাড়িতে সংক্রমণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই ক্ষতিকর অভ্যাসটি দূর করতে কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন :
১। নখ ছোট রাখা : নিয়মিত নখ কেটে ছোট ও মসৃণ রাখুন। নখ বড় না থাকলে তা কামড়ানোর সুযোগ কমে যাবে।
২।হাত ব্যস্ত রাখা : শিশু যখন টিভি দেখে বা অবসরে থাকে, তখন তার হাতে খেলার জিনিস বা ছবি আঁকার সরঞ্জাম দিন। হাত ব্যস্ত থাকলে নখের দিকে মন যাবে না।
৩। বিকল্প খাবার : নখ খাওয়ার চেষ্টা করলেই হাতে বাদাম বা আপেলের মতো হালকা স্ন্যাকস ধরিয়ে দিন।
৪।মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর : অনেক সময় শিশু দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে থাকলে নখ খায়। সেই সময়টাতে তাদের পাশে থাকুন এবং কারণটি বোঝার চেষ্টা করুন।
নখ কামড়ানোর অভ্যাস এক দিনে যায় না। তাই ধৈর্য ধরে ছোটদের এর কুফল সম্পর্কে বোঝাতে হবে। ঘরোয়া উপায়ে কাজ না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..