অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তারাও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৩)
প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, জান্নাতবাসীদের আনন্দকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আল্লাহ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে একত্রিত করবেন, যদিও তাদের আমলের স্তরে কিছু পার্থক্য থাকে।
আর সমকালীন বর্তমানের আলেমরা এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, যদি কোনো নারীর স্বামীদের মধ্যে একজন তার সঙ্গে উত্তম আচরণকারী ও অধিক নেককার হয়ে থাকেন, তবে তিনি তাকে বেছে নেবেন। আর যদি তাদের মর্যাদা ও আচরণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য না থাকে, তবে তিনি শেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন। তবে মনে রাখতে হবে, এসব ব্যাখ্যার অনেকগুলোই ইজতিহাদভিত্তিক। এ বিষয়ে কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কোনো চূড়ান্ত ও দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য নেই, যা সব মতভেদের অবসান ঘটিয়ে দেয়।
অতএব, দুই বা ততোধিক বিয়ে হওয়া নারী জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন—এ বিষয়ে ইসলামী পণ্ডিতদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি শেষ স্বামীর সঙ্গে থাকবেন; কেউ বলেন, তাকে পছন্দের অধিকার দেওয়া হবে; আবার কেউ বলেন, তিনি সেই স্বামীকে বেছে নেবেন, যিনি দুনিয়াতে তার সঙ্গে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করেছিলেন।
তবে এসব মতের ঊর্ধ্বে যে সত্যটি নির্দ্বিধায় বলা যায়, তা হলো—জান্নাত আল্লাহর সন্তুষ্ট বান্দাদের জন্য পরিপূর্ণ সুখ, শান্তি ও তৃপ্তির আবাস। সেখানে কোনো মুমিনের মনে দুঃখ, আফসোস বা অপূর্ণতা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম হিকমত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রত্যেক জান্নাতবাসীর জন্য এমন ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা চিরস্থায়ী সুখ ও প্রশান্তি লাভ করে। সুতরাং এ বিষয়ে চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে, আর মুমিনের কর্তব্য হলো—জান্নাত লাভের জন্য ঈমান ও নেক আমলে জীবনকে সাজিয়ে তোলা।