প্রতিদিনের প্রিয় একটি পানীয়ই ডেকে আনতে পারে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি—সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। কি সেই পানীয়?
১৯৮৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ১,১২,০০০ মানুষের পানীয় পানের অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।
যারা প্রতিদিন অন্তত ২৪০ মিলি বা তার বেশি চিনিযুক্ত পানীয় পান করেন, তাদের পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যারা এসব পানীয় একেবারেই খান না, তাদের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি।নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। চিনিযুক্ত পানীয় পান করা নারীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি তিন গুণ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।
পাকস্থলীতে চিনিযুক্ত পানীয়ের প্রভাব
খাদ্যাভ্যাস পাকস্থলীর ভেতরের সংবেদনশীল আস্তরণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। চিনিযুক্ত পানীয় প্রতিনিয়ত গ্রহণের ফলে এই আস্তরণে প্রদাহ এবং কোষের ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয়, যা ক্যানসারের অন্যতম বড় একটি পরোক্ষ ঝুঁকি।
কোন পানীয়গুলো বেশি ক্ষতিকর?
যেকোনো পানীয় যাতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয়, তা-ই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তবে সব পানীয়ের ক্ষতিকর মাত্রা এক নয়:
বেশি ক্ষতিকর: বাজারে প্রস্তুতকৃত সোডা বা কোল্ড ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্কস, স্পোর্টস ড্রিঙ্কস, কৃত্রিম প্রসেসড ফলের রস এবং মিষ্টি দেওয়া লেমনেড। বিশেষ করে হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপের মতো প্রক্রিয়াজাত উপাদান দিয়ে তৈরি পানীয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
ডায়েট সোডা ও বিকল্প খাদ্যাভ্যাস
কৃত্রিম মিষ্টতা নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিনিযুক্ত সোডার বদলে ডায়েট সোডা বেছে নেওয়া তুলনামূলক ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে, যা ক্যানসারের সার্বিক ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
বিশ্বজুড়ে ক্যানসারের বড় একটি কারণ খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা। অতিরিক্ত লবণাক্ত, মশলাজাতীয় খাবার ও পোড়া মাংসের বদলে প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার সীমিত রাখাই ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান উপায়।