রুকন উদ্দিন
কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৭নং মাসকা ইউনিয়নের মাচিয়ালি গ্রামের মো. মোজাম্মেল হকের কন্যা আয়েশা সিদ্দীকা রাযি: মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী মাসরুরা হক মিমি নামের এক তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই তরুণীর পিতা বাদি হয়ে অপহরণের মামলা করলেও, প্রকাশিত কোর্টের এভিডেভিট ও নিকাহনামায় ওই তরুণী নিজ সম্মতির স্বাক্ষর রয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাচিয়ালি গ্রামের মোজাম্মেল হকের কন্যা একই গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে রিপন মিয়াকে নিজের ইচ্ছায় গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং বিয়ে করেছে বলে জানা গেছে, এছাড়াও দুই পরিবারও নিকটাত্মীয়। তাদের ভাষ্য, ছেলে-মেয়ে কয়েকবছর ধরেই সম্পর্ক ছিল শুনেছপ। বিয়ের সময় তরুণীর সম্মতি ছিল এবং বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শীরা অবগত ছিলেন বলে জানান।
তবে, মেয়ের বাবা মোজাম্মেল হক মো. রিপন মিয়াসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান তারা।
এ ঘটনায় মামলা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে ছেলে-মেয়ের কোর্টের এফিডেভিট ও বিয়ের যে নিকাহনামা প্রকাশ্য এসেছে তাতে বর হিসেবে মো. রিপন মিয়া এবং কনে হিসেবে মাসরুরা হক মিমির নাম উল্লেখ রয়েছে। নিকাহনামায় কনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিকাহনামার তথ্য অনুযায়ী বিয়েতে দেনমোহর লেখা ৫লাখ ৮০ হাজার টাকা, এরমধ্যে বিয়ের সময় ১লাখ ৫০ হাজার পরিশোধের উল্লেখ রয়েছে। নিকাহনামায় বর-কনের স্বাক্ষর রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিকাহনামায় কনের স্বাক্ষর ও বিয়ের অন্যান্য তথ্য থাকায় বিষয়টি অপহরণ না-কি স্বেচ্ছায় বিয়ে তা তদন্ত করে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মেয়েটি যদি নিজের ইচ্ছেতে ওই ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে না যেত তাহলে মেয়েটি তার কাপড়-চোপড়, সাজ-গোজের জিনিস, শ্বাসকষ্টের ওষুধ এবং প্রেমিকের কাপড়-চোপড় তার নিজের ব্যাগে করে নিয়ে গিয়েছিল কেন? আর তাকে বারবার বলা হয়েছিল তাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার জন্য কিন্তু সে ওই ছেলেকেই বিয়ে করবে বলে এবং শেষ পর্যন্ত সে তাই করে।
তবে নিকাহনামা কোনো ঘটনার সব পরিস্থিতির চুড়ান্ত প্রমাণ কি-না এবং অপহরণের অভিযোগের সত্যতা কি তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়।
রিপন মিয়ার পিতা মো. বাদশা মিয়া জানান, মেয়েটির পিতা মোজাম্মেল হক আমার আত্মীয়। কয়েকবছর ধরে আমার ছেলের সাথে তার মেয়ের সম্পর্ক ছিল। ছেলে-মেয়ে বিয়ে করার পর আমরা জেনেছি। তারা নিজেরাই পালিয়ে বিয়ে করেছে কিন্তু তারপরও মোজাম্মেল হক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
মামলার বাদি ও মেয়ের বাবা মো. মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর আমার মেয়ে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে না আসায় আইনের আশ্রয় নেই। আমাদের গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উদ্ধার করে এবং রিপন মিয়াকে আটক করে পরবর্তীতে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আমি দোষীদের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মামলার সাক্ষী ও আয়েশা সিদ্দীকা রাযি: মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ আছাদুজ্জামান বলেন, সকল ছাত্রী ও অভিভাবকদের নির্দেশ দেয়া আছে কোন ছাত্রী যেন কোন দোকানে কোনকিছু কিনতে না যায়। ঘটনার দিন রাতে আমার মাদ্রাসার ছাত্রী মাসরুরা হক মিমির বাবা আমাকে মুঠোফোনে জানান তার মেয়েদ্বয় মাদ্রাসায় এসেছিল কিন্তু বড় মেয়ে মিমি বাড়িতে ফেরেনি।
তিনি আরও বলেন, এদিন যদি ওই ছেলে ওই মেয়েকে জোর করে অপহরণ করে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যেত তাহলে মাসকা বাজারের কারো না কারো চোখে অবশ্যই পড়তো। ওই ছেলে (রিপন মিয়া) কে এদিন আমি বা আমার মাদ্রাসার কেউ এই এলাকায় দেখিনি এবং অন্য কোনদিনও দেখিনি। ওই ছাত্রীর বাবা বার-বার যোগাযোগ করতেছেন তার মেয়েকে পূনরায় মাদ্রাসায় ক্লাস করার জন্য পাঠাতে, কিন্তু আমি বলে দিয়ে আমার স্টাফ মিটিংয়ের পর বিষয়টি তাকে জানানো হবে।