খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম:খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের পক্ষ থেকে। তাদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বই পরিবহনের জন্য নির্ধারিত অর্থ তারা পাচ্ছেন না। ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থে বই পরিবহনের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বটিয়াঘাটা উপজেলায় মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ে মোট ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর সরকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য পাঠ্যবই সরবরাহ করে। এসব বই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিতে পরিবহন ব্যয় হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত পরিবহন ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও গত প্রায় দুই বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা ওই ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
ভুক্তভোগী কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, বই পরিবহন ভাতা পাওয়ার বিষয়ে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানকেও অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো এর কার্যকর সমাধান হয়নি বলে তাদের দাবি।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নামে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করলেও তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অর্থ আদায়ের পর প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয় না বলেও কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বই পরিবহন ভাতা না পাওয়ায় অনেক সময় বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোকে নিজেদের তহবিল থেকে বই আনা-নেওয়ার খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে সংকটে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, গত দুই বছরের বকেয়া বই পরিবহন ভাতা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমের নামে আদায় করা অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং তা সংশ্লিষ্ট খাতে যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকার না দিলে আমি কোথা থেকে দেবো।” শিক্ষকদের অভিযোগ এবং ক্রীড়া কার্যক্রমের নামে অর্থ আদায়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।