চেচনিয়ার শালি শহরে অবস্থিত ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ ‘প্রাইড অব মুসলিমস’। এটি মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ‘প্রাইড অব মুসলিমস’ নামেই বেশি পরিচিত।
এই স্থাপনাটি আজ রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক স্থাপত্য নিদর্শন এবং ককেশাস অঞ্চলের একটি প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।বিশ্বজুড়ে মুসলিম ও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালে উদ্বোধিত এই স্থাপনাটি মুসলিম স্থাপত্যশৈলীতে এক অনন্য নিদর্শন। ককেশীয় ও উজবেক স্থাপত্যরীতির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক অলংকরণের অপূর্ব সমন্বয়ে নির্মিত মসজিদটি উজবেক স্থপতি আব্দুলকরিম তুরদিয়েভের নকশায় গড়ে উঠেছে। এখানে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির এক চমৎকার সেতুবন্ধ দেখা যায়, যা ইসলামী সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে।
নির্মাণে সময় লেগেছে টানা সাত বছর। শেষ পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রিসের থাসোস দ্বীপ থেকে আনা উজ্জ্বল সাদা মার্বেল, যা শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে তীব্র গরমেও ভবনটিকে শীতল রাখতে সহায়তা করে। অভ্যন্তরীণ নকশায়ও রয়েছে অনন্য শিল্পশৈলী।উজবেকিস্তান ও তুরস্কের ৩৫ জন দক্ষ কারিগর সূক্ষ্ম ‘গানাশ’ অলংকরণ ও সোনার পাতের কারুকাজের মাধ্যমে দেয়াল ও ছাদকে সজ্জিত করেছেন।ফলে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে রাজকীয় ও নান্দনিক এক আবহ। ধারণক্ষমতার দিক থেকেও এটি বিস্ময়কর।
ছুটির দিনগুলোতে মসজিদের ভেতরের হলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। আর এর বিস্তৃত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত প্রায় ৭০ হাজার মানুষ একসঙ্গে অংশ নিতে পারেন। মসজিদের ভেতরে রয়েছে পদ্মফুল আকৃতির সোনা ও ক্রিস্টাল খচিত বিশাল ঝাড়বাতি, যা আলো ছড়িয়ে ভেতরের পরিবেশকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তোলে।
এ ছাড়া প্রায় ৮ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিছানো অনন্য গালিচায় ফুটে উঠেছে সাদা লিলি ফুলের নকশা এবং চেচেন ঐতিহ্যের নিপুণ ছোঁয়া। মসজিদটির সামগ্রিক নকশায় মধ্য এশিয়ার ইসলামী স্থাপত্যরীতির স্পষ্ট প্রতিফলন হয়েছে। অভ্যন্তরের হলগুলো আরবি ক্যালিগ্রাফি ও জ্যামিতিক অলংকরণে সজ্জিত, যা এক অনন্য নান্দনিক ভারসাম্য সৃষ্টি করেছে।
প্রধান নামাজের কক্ষটি স্তম্ভবিহীন ও প্রশস্ত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নির্বিঘ্নে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন। এর সুউচ্চ মিনারগুলো প্রায় ৬৩ মিটার উচ্চতায় আকাশ ছুঁয়েছে, আর কেন্দ্রীয় গম্বুজটির উচ্চতা প্রায় ৪৩ মিটার—ফলে এটি শহরের বিভিন্ন স্থান থেকেই সহজেই দৃশ্যমান।
চার হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত বাগান কমপ্লেক্সে রয়েছে প্রায় ২ হাজার গাছপালা, ৫০ প্রজাতির গোলাপ, দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা এবং অজুর জন্য নির্মিত মার্বেলের মণ্ডপ। সব মিলিয়ে, এই মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক, যা প্রতিনিয়ত বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে চলেছে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..