করোনা-পরবর্তী সময়ে কেন বাড়ল গুরুত্ব?
করোনা মহামারির পর অনেক মানুষের জীবনযাত্রা বদলে গেছে।দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা, একাকিত্ব, চাকরির চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলেছে। তাই বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের শুধু শারীরিক নিরাপত্তা নয়, মানসিক সুস্থতার বিষয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে কয়েকটি সহজ উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
কর্মীদের মতামত গুরুত্ব দিয়ে শোনা।
সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা।
ভুলকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা।
মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।
প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাকারী বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী রাখা।
কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে উৎসাহ দেওয়া।
সহকর্মীদের ভূমিকাও কম নয়
একজন সহকর্মীর আন্তরিক আচরণ বা মন দিয়ে কথা শোনাও অনেক সময় একজন মানুষের মানসিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান দলীয় আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক আয়োজন বা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করছে।
বার্নআউটের ঝুঁকি বাড়ছে
বর্তমানে অনেক কর্মী অফিস শেষ হওয়ার পরও ই-মেইল, ফোন বা অনলাইন মিটিংয়ের মাধ্যমে কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এতে বিশ্রামের সময় কমে যায় এবং বার্নআউট বা অতিরিক্ত মানসিক ক্লান্তির ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত।
লাভবান হয় কর্মী ও প্রতিষ্ঠান—দুজনই
মানসিকভাবে সুস্থ কর্মীরা সাধারণত বেশি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সৃজনশীল হন। এতে কর্মী বদলের হার কমে, অনুপস্থিতি হ্রাস পায় এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়ে। একই সঙ্গে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কর্মীদের পরিবার ও সামাজিক জীবনেও।
উল্লেখ্য বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মজীবনে শুধু দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। কর্মীদের মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও একটি প্রতিষ্ঠানের বড় দায়িত্ব। কারণ একজন কর্মী যখন সম্মান, আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশে কাজ করেন, তখন তিনি শুধু ভালো কাজই করেন না, বরং নিজেও ভালো থাকেন। আর কর্মীদের এই ভালো থাকাই একটি সফল ও টেকসই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম ভিত্তি।