রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে তার দপ্তরের চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনি সাহস ধরে থাকেন। রাজশাহীকে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রামেবি অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে হেনস্তা করে জোর করে একটি কাগজে সই নেওয়া হয়। ওইদিন বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তার কক্ষে ঢুকে তাকে একটি কাগজে সই করতে বলেন। কাগজটি তাকে পড়তে দেওয়া হয়নি। সই না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তাতে সই করেন। তার ধারণা, সেটি ছিল পদত্যাগপত্র।
ঘটনার সময় উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উপাচার্য ও তার ব্যক্তিগত সহকারীকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া দপ্তরের কম্পিউটারের সিপিইউ, সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়ার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি দপ্তরে তালা দেওয়ার অভিযোগ করেন উপাচার্য।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, সরঞ্জাম চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরদিকে উপাচার্যকে তার দপ্তরে নিয়ে যাবার পর সেখানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের পথে রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় প্রকল্প মন্ত্রীসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের ভালো আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের পক্ষে সীমিত সময়ে অনেক রোগী দেখা সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা ঠিক নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল এলাকায় বেশি করে গাছ লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
চেয়ারে বসার পর উপাচার্য জাওয়াদুল হক জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ভূমিমন্ত্রীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তারা সবাই তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।