ঘর পরিষ্কার করা অনেকের কাছেই বিরক্তিকর কাজ।কিন্তু জাপানি সংস্কৃতিতে ‘সোউজি’ বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে আরো সচেতনভাবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। ঘর গোছানোর সময় শুধু ময়লা পরিষ্কার নয়, নিজের চারপাশের পরিবেশের প্রতিও মনোযোগ দেওয়া হয়। অগোছালো জায়গা গুছিয়ে ফেললে অনেক সময় মনও হালকা লাগে। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট নিজের ঘর বা কাজের জায়গা গোছানোর অভ্যাস করুন।
৪. ইউবুনে নি সুকারু
গোসল মানেই দ্রুত শরীর পরিষ্কার করে বেরিয়ে আসা জাপানি সংস্কৃতিতে বিষয়টি সব সময় এমন নয়। উষ্ণ পানিতে কিছুক্ষণ ডুবে থাকা বা ‘ইউবুনে নি সুকারু’ দিনের ক্লান্তি কাটানোর একটি শান্ত উপায় হতে পারে। সারা দিনের কাজ শেষে কিছুক্ষণ উষ্ণ পানিতে নিশ্চুপ বসে থাকুন। ফোন দূরে রাখুন, কোনো কাজের চিন্তা না করে শুধু নিজের দিকে মনোযোগ দিন।
৫. মত্তাইনাই
নতুন কিছু কেনার ইচ্ছা আমাদের প্রায় সবারই থাকে। কিন্তু পুরোনো জিনিসটি একটু যত্ন নিলে, মেরামত করলে বা পুনরায় ব্যবহার করা গেলে সেটিকে ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। জাপানি ধারণা ‘মত্তাইনাই’ অপচয়ের প্রতি আক্ষেপ এবং কোনো জিনিসের মূল্যকে সম্মান করার ভাবনা প্রকাশ করে। জামাকাপড়, আসবাব, বই কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস যা আছে, তার যত্ন নে য়ার চেষ্টা করুন। সবসময় নতুন কিছু পাওয়ার দিকে না ছুটে, নিজের কাছে থাকা জিনিসগুলোর মূল্য বোঝাও হতে পারে সুখী ও সরল জীবনের একটি অংশ।
৬. শুন
জাপানি সংস্কৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের প্রতি বিশেষ ধরনের মুগ্ধতা রয়েছে। ‘শুন’ বলতে কোনো খাবার বা অভিজ্ঞতা যখন তার মৌসুমের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়ে থাকে, তখন সেটিকে উপভোগ করার ধারণাকে বোঝায়। আমাদের জীবনেও এর চর্চা করা সম্ভব। বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রকৃতিতে কী পরিবর্তন হচ্ছে, কোন ফল বা খাবার এখন পাওয়া যাচ্ছে, আবহাওয়া কীভাবে বদলাচ্ছে এসবের দিকে একটু মনোযোগ দিন।
৭. হায়াওকি
সকালের শুরুটাই যদি তাড়াহুড়ো করে হয়, তাহলে সারাদিনের মধ্যেই যেন সেই ব্যস্ততার ছাপ থেকে যায়। তাই জাপানি জীবনযাপনের আরেকটি পরিচিত ধারণা হলো ‘হায়াওকি’, অর্থাৎ সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা। তবে এর অর্থ ঘুম কমিয়ে দেয়া নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের পর একটু আগে উঠুন এবং দিনের শুরুতে নিজেকে কয়েক মিনিট সময় দিন।
জাপানি জীবনধারার এই অভ্যাসগুলোর মূল শিক্ষা হলো জীবনকে আরও সুন্দর করতে সবসময় বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই; বরং প্রতিদিনের সাধারণ কাজগুলোকে একটু বেশি সচেতনভাবে করা দরকার। ঘর পরিষ্কার করা, খাবার খাওয়া, জুতা গুছিয়ে রাখা, গোসল করা কিংবা সকালে ঘুম থেকে ওঠা সবকিছুর মধ্যেই যদি একটু মনোযোগ ও কৃতজ্ঞতা যোগ করা যায়, তাহলে ব্যস্ত জীবনের মাঝেও নিজের জন্য কিছু শান্ত মুহূর্ত তৈরি করা সম্ভব।