দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট এবং মুনাফালোভীদের কারসাজি রুখতে আবারও ‘রেশনিং’ ব্যবস্থা প্রবর্তনের ওপর জোর দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করছে, স্বাভাবিক সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও মজুতদারি ও অপ্রয়োজনীয় সংগ্রহের কারণে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।
সিপিডির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ঈদের আগে যখন রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর ছিল, তখন ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের লাইন তুলনামূলক ছোট ছিল। কিন্তু রেশনিং তুলে নেওয়ার পর থেকেই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রেশনিং না থাকায় অনেকে প্রয়োজন না থাকলেও প্রতিদিন তেল সংগ্রহ করছেন এবং সেই তেল বাইরে চড়া দামে বিক্রি করে মুনাফা লুটছেন। এর ফলে দৈনিক স্বাভাবিক সরবরাহ দিয়েও চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারের দেওয়া তেলের মজুত ও বিতরণের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে বলে দাবি করেন এই গবেষক। তিনি বলেন, ‘ডিপো থেকে প্রতিদিন কী পরিমাণ তেল ছাড় করা হচ্ছে এবং কোন জেলার কোন ফিলিং স্টেশনে কতটুকু যাচ্ছে, সেই তথ্য জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট নয়।
এই তথ্যগুলো নিয়মিত প্রকাশ করা হলে জনমনে বিভ্রান্তি কমত।’জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের লিকেজ বা চুরির আশঙ্কা প্রকাশ করে ড. মোয়াজ্জেম বলেন, আমদানি পর্যায় থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত ৫-৭টি পয়েন্টে তেল হাতবদল হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনা জরুরি। এ ছাড়া বিপিসির সাপ্লাই চেইন আগে থেকেই নানা অনিয়মে অভিযুক্ত, যা এখন মুনাফালোভীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তেল মাঝপথে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে কি না বা কে কতটুকু নিচ্ছেন, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হলে সংকটের তীব্রতা অংশত কমে আসবে বলে মনে করে সিপিডি।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..