দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ব্যাপক কর্তৃক পুশ-ইনের চেষ্টার খবরের মধ্যেই নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর সহ বিভিন্ন সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসঙ্গে গত ৪ জুন জেলার দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৩৭ জনকে পুশ-ইনের যে খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ‘সঠিক নয়’ বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বিজিবি।
শুক্রবার (৫ জুন) নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) কর্তৃক এক প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিএসএফ কর্তৃক পুশ-ইন করানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বর্ডার অবজারবেশন পোস্ট (বিওপি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে এ ধরনের কোনো পুশ-ইন যেন না ঘটে, সেজন্য বিজিবির সকল বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্তের সম্ভাব্য পুশ-ইনের স্থানগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে সেখানে সার্বক্ষণিক টহল ও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে বিএসএফকে বিজিবির জোরালো উপস্থিতির কথা জানান দেওয়ার জন্য মেগাফোন, সার্চলাইট এবং বাঁশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন সময় গ্রামবাসীর সহায়তায় সীমান্তে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও নিজস্ব সোর্সের (উৎস) মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
এনিয়ে গত ৪ জুন বেশ কিছু পত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ১৩৭ জনকে বিএসএফ পুশ-ইন করার চেষ্টা করেছিল এবং বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাঁধায় তা ব্যর্থ হয়েছে। এ খবরের সত্যতা নাকচ করে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এই তথ্যটা সঠিক নয়। আমাদের টহলের অংশ হিসেবে বিজিবি ও গ্রামবাসীসহ সীমান্তে যৌথ টহল কার্যক্রম করেছিলো মাত্র। তবে ভবিষ্যতে পুশ-ইন সংক্রান্ত কোনো বাস্তব তথ্য বা ঘটনা ঘটলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।