নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর তুরাগের বাউনিয়া বাদালদী গ্রামে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে দুই সহোদর ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। দুজনের ক্ষেত্রেই বুকে ব্যথা ও প্রচণ্ড ঘাম হওয়ার পরপরই মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। একই পরিবারের আরেক ভাইও কয়েক দিন আগে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে শয্যাশায়ী রয়েছেন।
সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন (৪৫) বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি প্রচণ্ড ঘামতে থাকেন। পরে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
এর মাত্র ১২ দিন আগে, ৯ সেপ্টেম্বর, একইভাবে মারা যান জসিম উদ্দিনের বড় ভাই মো. আব্দুল হালিম। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তাঁরও বুকে ব্যথা ও প্রচণ্ড ঘাম হওয়ার পর আকস্মিক মৃত্যু হয়।
একই পরিবারের দুই ভাইয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো বাউনিয়া বাদালদী এলাকাতেও।
ঝপরিবার সূত্রে জানা যায়, মরহুম মো. সামছুদ্দিনের তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আব্দুল হালিম, মেঝো ছেলে মো. সেলিম উদ্দিন এবং ছোট ছেলে মো. জসিম উদ্দিন। গত শুক্রবার মো. সেলিম উদ্দিনও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃত্যুকালে মো. জসিম উদ্দিন মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। অন্যদিকে তাঁর বড় ভাই মো. আব্দুল হালিম রেখে গেছেন মা, স্ত্রী ও তিন ছেলে।
একই পরিবারের অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যু এবং আরেক ভাইয়ের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম বয়সে আকস্মিক হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কেন বাড়ছে, কোন কোন কারণে এ ধরনের আকস্মিক মৃত্যু ঘটছে এবং ঝুঁকি কমাতে কী ধরনের জীবনযাপন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে আরও জনসচেতনতা, চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, বুকে চাপ বা ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, মাথা ঘোরা কিংবা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে হৃদ্রোগের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।