বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে পুতিন বলেন, রাশিয়া কাউকে হুমকি দিচ্ছে না।পশ্চিমা নেতারা ২০২৯ বা ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, মস্কো তার জবাব দিচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রাশিয়া অভিযোগ করে আসছে, ন্যাটো কালিনিনগ্রাদ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অঞ্চলটি লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের কাছে অবস্থিত।রাশিয়া এর আগে সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার করা হতে পারে।
পুতিন স্বীকার করেন, ইউক্রেনের রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমেছে বলেও জানান তিনি। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে হামলার কারণ হলো এসব স্থাপনা থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই রাশিয়া যুদ্ধের খরচ চালায়।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে। শীতকালে এসব হামলা আরও বাড়ে। ইউক্রেনের অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতেও নিয়মিত হামলা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও ড্রোন হামলা হয়েছে।
কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার কোনো ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা হলে দেশটি হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে। এর মধ্যে কালিনিনগ্রাদও রয়েছে। তার অভিযোগ, বাল্টিক সাগরে ন্যাটোর নৌ মহড়া কালিনিনগ্রাদের জন্য হুমকি তৈরি করছে। পশ্চিমা দেশগুলো কালিনিনগ্রাদ অবরোধ করলে রাশিয়া প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শক্তি ব্যবহার করবে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও থাকতে পারে।
পুতিন বলেন, ২০২৯, ২০৩০ বা ২০৫০ সালে কোনো দেশকে আক্রমণের পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে কোনো আগ্রাসনের মুখে পড়লে রাশিয়াকে জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোরও উদ্বেগ রয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, রাশিয়া লিথুয়ানিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে কালিনিনগ্রাদ ও মিত্র দেশ বেলারুশের মধ্যে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এই এলাকার নাম ‘সুওয়ালকি গ্যাপ’।
লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে বিবিসিকে বলেন, রাশিয়া হামলা চালালে কীভাবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হবে, সে পরিকল্পনা তৈরি করেছে তার দেশ। দেশটিতে ন্যাটোর হাজার হাজার সেনাও মোতায়েন রয়েছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বুধবার বলেন, জোটের কোনো মহড়া বা কার্যক্রমই মস্কোর জন্য হুমকি নয়। ক্রেমলিনের এমন বক্তব্যকে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয় এবং সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেন।
পুতিন তার বক্তব্যে বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর হাতে থাকা অস্ত্র নিয়েও কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব অস্ত্র ব্যাপক ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। এসব অস্ত্র কখনো ব্যবহার করা হবে না—এমন নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় পুতিন মঞ্চে রাখা বন্দুকের একটি উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, নাটকের শুরুতে মঞ্চে কোনো বন্দুক দেখা গেলে সাধারণত নাটকের শেষ দিকে সেটি ব্যবহার করা হয়। পুতিন যুদ্ধের নিয়ম নতুন করে ভাবার প্রয়োজনের কথাও বলেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার কারণে যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। তার ভাষায়, যুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় যুদ্ধ অনেকটা খেলায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে মানুষের আচরণ আরো কঠোর হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।