কোরআনের বর্ণনায় পিতা-পুত্রের ঘটনা : আল্লাহর জন্য পিতা ও পুত্রের উৎসর্গের পুরো ঘটনার বর্ণনা পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি [ইবরাহিম (আ.)] বলেন, হে আমার রব, আমাকে একজন সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান করুন। অতঃপর আমি তাকে একজন বুদ্ধিমান পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। অতঃপর সে [ইসমাঈল (আ.)] যখন কাজের বয়সে উপনীত হয়, তখন ইবরাহিম বলল, হে আমার পুত্র, আমি স্বপ্নে দেখি যে তোমাকে আমি জবাই করছি। এখন তোমার মত কী, বলো। সে বলল, হে আমার পিতা, আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা-ই করুন, আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং তিনি [ইবরাহিম (আ.)] পুত্রকে জবাইয়ের জন্য কাত করেন। তখন আমি তাকে ডাক দিয়ে বললাম, হে ইবরাহিম, আপনি স্বপ্নের আদেশ পালন করেছেন। আমি এইভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই তা ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে একটি (কোরবানির) জন্তুর মাধ্যমে মুক্ত করি। আমি তা পরবর্তীদের জন্য বিধান হিসেবে রেখেছি।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত : ১০০-১০৮)
অতএব, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ স্বীকার করাই মুমিনের প্রকৃত পরিচয়। হাবিলের একনিষ্ঠতা এবং ইবরাহিম (আ.)-এর অকল্পনীয় আত্মত্যাগ আজও মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ কোরবানি দেওয়ার শিক্ষা দেয়। তাই কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাইয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজের অহংকার, লোভ, হিংসা ও গুনাহকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিসর্জন দেওয়াই এর আসল শিক্ষা। যখন মানুষের অন্তরে তাকওয়া ও আত্মসমর্পণের এই চেতনা জাগ্রত হবে, তখনই কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য ও তাৎপর্য বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হবে। ইনশাআল্লাহ।