যেকোনো ফার্মেসিতে গেলেই কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করলেই আজ চোখে পড়ে শত শত ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট (পুষ্টিবর্ধক)। এসবের বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়—তারা আপনার শক্তি বাড়াবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করবে, পেশী তৈরি করবে কিংবা ভালো ঘুমাতে সাহায্য করবে। তবে প্রকৃত সত্য হলো, সব সাপ্লিমেন্ট সবার জন্য প্রয়োজন নয় এবং অনেকেই এমন সব পণ্য কিনে টাকা নষ্ট করছেন যার হয়তো কোনো দরকারই নেই।
ড. সেঠির মতে যে ৬টি সাপ্লিমেন্ট আসলেই কার্যকর:
১. ম্যাগনেসিয়াম
এই চিকিৎসকের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম। তার তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ২৪০ কোটি মানুষ তাদের শরীরে পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম পান না।
এটি শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি ভালো ঘুম, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডের চেয়ে ‘গ্লাইসিনেট’ এবং ‘সাইট্রেট’ ফর্মগুলো মানব শরীরে দ্রুত ও ভালোভাবে শোষিত হয়।
২. ভিটামিন বি১২
ভিটামিন বি১২ বিশেষ করে নিরামিষভোজী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং যারা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ বা দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান—তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. সেঠি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে যে মেটফরমিন দীর্ঘকাল ব্যবহারকারীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের শরীরে বি১২-এর মাত্রা কমে যায়। তাই এই রোগীদের নিয়মিত ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি।
৩. ভিটামিন ডি
হাড়, পেশী এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই চিকিৎসকের মতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভুগছেন।
৪. ওমেগা-৩
যদি আপনার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় তৈলাক্ত মাছ না থাকে, তবে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ড. সেঠি বলেন, গবেষণা অনুযায়ী ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কিছু মানুষের শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড (এক ধরণের ক্ষতিকর ফ্যাট)-এর মাত্রা প্রায় ২২ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে।
৫. ক্রিয়েটিন মনোহাইড্রেট
ক্রীড়াবিদ বা ব্যায়ামবিদদের জন্য বাজারে থাকা সাপ্লিমেন্টগুলোর মধ্যে ক্রিয়েটিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে। ড. সেঠির মতে, গবেষণায় দেখা গেছে যে ৫০ বছরের কম বয়সি প্রাপ্তবয়স্করা যদি শরীরচর্চার (রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং) পাশাপাশি এটি গ্রহণ করেন, তবে তা কেবল ব্যায়াম করার চেয়ে শরীরের নিচের অংশের পেশী বা শক্তি বাড়াতে অনেক বেশি সাহায্য করে।
৬. ইসবগুলের ভুষি
আমাদের দৈনন্দিন খাবারে ফাইবারের (আঁশ) যে চাহিদা থাকে, অনেকেই তা পূরণ করতে পারেন না। ড. সেঠি জানান, প্রতিদিন মাত্র ১০ গ্রাম ইসবগুলের ভুষি গ্রহণ করলে তা শরীরের ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়ার সুরক্ষায় সাহায্য করে।
সুতরাং সাপ্লিমেন্ট নিয়ে ড. সৌরভ সেঠির বার্তাটি খুবই স্পষ্ট ও সহজ। সাপ্লিমেন্ট তখনই উপকারি, যখন তা সঠিক কারণে এবং সঠিক নিয়মে খাওয়া হয়। এগুলো কোনো জাদুকরী বড়ি বা সুস্বাস্থ্যের শর্টকাট নয়।
দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার মূল ভিত্তি হলো একটি সুষম খাদ্যতালিকা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। পুষ্টির প্রকৃত ঘাটতি পূরণের জন্য কেবল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারেই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।