২. দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের অবিচ্ছেধ্য অংশ : আল্লাহ বলেন : ‘তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।
৪. সন্তান প্রতিপালনে আমানতদারিতা রক্ষা করা : সন্তান শুধু পরিবার নয়, বরং সমাজ ও উম্মাহর ভবিষ্যৎ। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা করো। (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)
৫. পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার উপায় : ইসলাম পরিবারে তিনটি মৌলিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে, ১. পারস্পরিক ভালোবাসা, সহানুভূতি, কোমলতা। ২. পরস্পরের অধিকার রক্ষা, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অধিকার আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। ৩. ধৈর্য ও ক্ষমা, পারিবারিক জীবনে ভুল বোঝাবুঝি স্বাভাবিক, তবে ক্ষমা ও ধৈর্য সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে প্রদান করা হবে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ১০)
৬. পরিবারে বৃদ্ধ মাতা-পিতার আনুগত্য : ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে তুমি তাকে (আল্লাহ) ছাড়া কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ২৩)।
৭. পারিবারিক ভাঙন ও তার প্রতিকার : আধুনিক সমাজে পরিবার ভাঙনের কারণ অজস্র, যেমন- পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার, ধৈর্যের অভাব ও ধর্মীয় জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি। তাই ইসলাম এসব সমস্যার সমাধান দিয়েছে, তা হলো- তাকওয়াভিত্তিক জীবনযাপন, পরস্পরের অধিকার জানা, নৈতিক শিক্ষা এবং দোয়া করা। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ বের করে দেন।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ২)
৮. পরিবারের সদস্যদের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা : পরিবারের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের জন্য চোখের শীতলতা হবে।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭৪)
সুতরাং পারিবারিক স্থিতিশীলতা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়; বরং এটি পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, ত্যাগ, সহমর্মিতা এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার ফল। ইসলামের নির্দেশিত নীতিমালা পরিবারকে শুধু ভাঙনের হাত থেকেই রক্ষা করে না, বরং সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে। আজকের অস্থির সময়ে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের কল্যাণের জন্য ইসলামের এসব নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। যখন পরিবারের প্রতিটি সদস্য নিজের কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করবে এবং ইসলামী মূল্যবোধকে জীবনের অংশ বানাবে, তখন পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, সমাজ হবে সুস্থ ও সুন্দর, আর আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকত নেমে আসবে সবার জীবনে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাকওয়ানির্ভর আদর্শ পরিবার গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।