এভাবে পরিবার হয়ে উঠেছে মানব সমাজের মূল ভিত্তি।কেননা পারিবারিক জীবন ব্যতিরেকে মানব সভ্যতা কল্পনা করা যায় না। মানুষের অস্তিত্বের জন্য পারিবারিক জীবন অপরিহার্য। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা, উন্নতি-অগ্রগতি ইত্যাদি সুষ্ঠ পারিবারিক ব্যবস্থার ওপরে অনেকাংশে নির্ভরশীল। সুতরাং আদর্শ সমাজ গঠনে আদর্শ পরিবার গঠন অপরিহার্য।
২. বংশ সংরক্ষণ : পরিবারের মাধ্যমে মানববংশ রক্ষা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই মানুষকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বিবাহগত সম্পর্ক নির্ধারণ করেছেন। আর তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।’ (সুরা : ফুরক্বান, আয়াত : ৫৪)
৩. শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র : পরিবার এক অনন্য শিক্ষাগার। এখানে পিতামাতা সন্তানকে সুশিক্ষিত করে তোলে। পিতামাতার নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেই সন্তান সুনাগরিক হিসাবে গড়ে ওঠে। তাই যে শিশু পারিবারে সঠিকভাবে গড়ে ওঠে, সে বড় হয়েও সঠিক পথে অবিচল থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক সন্তানই ফিতরাতের (ইসলামের) উপর জন্মগ্রহণ করে থাকে। তারপর তার মাতা-পিতা তাকে ইহুদি বা খৃষ্টান কিংবা অগ্নিপূজক বানায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১৩৮৫)
৪. সুখ-শান্তি ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু : পরিবার মানুষ সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তা লাভের মাধ্যম। এবং তাদের মধ্যে মহববত-ভালবাসা তৈরী হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।’ (সুরা : রুম,আয়াত : ২১)
৫. জৈবিক চাহিদা পূরণ ও লজ্জাস্থানের হেফাজত : পারিবারিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের স্বভাবসিদ্ধ জৈবিক চাহিদা বৈধ পথে পূরণ করার সুযোগ হয়। ফলে লজ্জাস্থান হেফাজত করা যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,‘হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে এবং চক্ষুকে অবনত রাখে।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৪০০)
৬. পারিবারিক জীবন যাপন করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য : মুমিন বান্দাদের অন্যতম গুণ সুন্দর পারিবারিক জীবন যাপন। এজন্য তারা মহান আল্লাহর কাছে দো‘আ করে এই বলে,
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের মাধ্যমে চক্ষুশীতলকারী বংশধারা দান কর এবং আমাদের আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শ বানাও।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭৪)
পবিত্র কোরআনে পরিবারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পরিবারকে মানুষের জন্য ‘সাকিনাহ’ তথা প্রশান্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে মানুষ খুঁজে পায় মানসিক সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তা। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত কোরআনের পারিবারিক নির্দেশনাগুলো হৃদয়ে ধারণ করা এবং নিজেদের পরিবারকে ঈমান, আকিদা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে গড়ে তোলা। কেননা একটি আদর্শ পরিবারই একটি আদর্শ জাতি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।