فَفَهَّمۡنٰهَا سُلَیۡمٰنَ ۚ وَ كُلًّا اٰتَیۡنَا حُكۡمًا وَّ عِلۡمًا ۫ وَّ سَخَّرۡنَا مَعَ دَاوٗدَ الۡجِبَالَ یُسَبِّحۡنَ وَ الطَّیۡرَ ؕ وَ كُنَّا فٰعِلِیۡنَ
সরল অনুবাদ :
‘তারপর আমি এ বিষয়ের ফয়সালা সুলায়মানকে বুঝিয়ে দিলাম। আর আমি তাদের প্রত্যককেইে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
এ আয়াতে আল্লাহ ন্যায়বিচারের একটা মূলনীতি বলছেন, তা হলো—দুজন বিচারপতি যদি একটি মোকদ্দমার তথা কোনো একটা বিষয়ের ফায়সালা করেন আর দুজনের ফায়সালা ভিন্ন ভিন্ন হয়, তাহলে যদিও একজনের ফায়সালাই ধর্তব্য হবে এবং মানা হবে তবুও দুজনেই ন্যায়বিচারক হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে শর্ত হচ্ছে, বিচার করার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা উভয়ের মধ্যে থাকতে হবে। তাদের কেউ যেন অজ্ঞতা ও অনভিজ্ঞতাসহকারে বিচারকের আসনে বসে না যান।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি বিচারক নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ফায়সালা করার পূর্ণ প্রচেষ্টা করেন, তাহলে সঠিক ফায়সালা করার ক্ষেত্রে তিনি দুটি প্রতিদান পাবেন এবং ভুল ফায়সালা করলে পাবেন একটি প্রতিদান। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৯১৯)
আয়াতে مع শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে পাহাড় ও পাখিদের অনুগত করা হয়েছিল। এজন্য তারাও দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করত।
এ থেকে বুঝা যায় যে, কোরআন তেলাওয়াতে সুন্দর সুর ও চিত্তাকর্ষক উচ্চারণ কাম্য, পছন্দনীয় ও প্রশংসনীয়। (তাফসিরে জাকারিয়া, ইবনে কাসির)
এ কথা ঠিক না যে, দাউদ (আ.)-এর তসবিহর আওয়াজ পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হত। কারণ, তাতে কোনো মুজিজা প্রমাণ হয় না। আর যে কেউ আওয়াজ করলেই তো পাহাড়ে প্রতিধ্বনি হয়। তাই এর অর্থ হলো, দাউদ (আ.)-এর সঙ্গে পাহাড়ও তসবিহ পাঠ করত এবং তা বাস্তব সত্য, এ আয়াত কোনো রূপক অর্থে নয়। পাখির ক্ষেত্রে বিষয়টি তো স্পষ্ট। আয়াতের শেষে আল্লাহ বলছেন, এসব কিছু আমিই করেছি। তাই এতে কারো আশ্চর্য্য হওয়ার অথবা অস্বীকার করার কিছুই নেই। কারণ আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)