তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যদি স্থায়ী কাশি বা কাশির ধরনে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে ঋতুগত সংক্রমণ বা অ্যালার্জি ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। টানা কাশি থাকা হচ্ছে ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ।
কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া
কাশি বা থুথুর সঙ্গে সামান্য রক্তের দাগ থাকলেও তা অস্বাভাবিক।যক্ষ্মার মতো সংক্রমণের জন্যও রক্ত পড়ার এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ লক্ষণ থাকলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।
সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার সময় বা অল্প দূরত্বে হাঁটা-চলার সময় অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হলে তা নির্দেশ করতে পারে যে, টিউমার শ্বাসনালী বন্ধ করে দিচ্ছে বা ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা শুরু করেছে।
বুকে বা কাঁধে টানা ব্যথা
কয়েক সপ্তাহ ধরে যদি স্থায়ী ব্যথা থাকে, বিশেষ করে কাশি দিলে বা গভীর শ্বাস নিলে তা অধিকতর তীব্র হয়, তাহলে চিকিৎসার প্রয়োজন। যাকে প্রায়ই পেশির টান বা সারভাইকাল স্পাইনের (ঘাড়ের হাড়) সমস্যা ভেবে ভুল করা হয়।
এছাড়া ধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। তবে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন রোগী জীবনে কখনো ধূমপান করেননি। পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা, বায়ুদূষণ, অ্যাসবেস্টস ও সিলিকার মতো পেশাগত রাসায়নিক পদার্থের কারণে, রেডন গ্যাস ও জিনগত বা বংশগত কারণেও ফুসফুস ক্যান্সার হতে পারে।
তবে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে, উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য লো-ডোজ সিটি স্ক্রিনিং, ন্যূনতম প্রসেসযুক্ত অস্ত্রোপচার এবং রোবোটিক থোরাসিক সার্জারির অগ্রগতির কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যান্সার শনাক্ত হলে চিকিৎসায় এর উন্নতি হয়। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো লক্ষণ থাকলে তার সঠিক কারণ জানা জরুরি। কেননা, প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত সম্ভব হলে তা নিরাময়যোগ্য।