বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল সাদা বা ধূসর হওয়া স্বাভাবিক। তবে অনেকের ক্ষেত্রে ৩০ বছরের আগেই কিংবা অল্প বয়সে চুল পাকতে শুরু করে। এর পেছনে বংশগত কারণ, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ধূমপানসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি শরীরে কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতির সঙ্গেও অকালপক্বতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি
ভিটামিন বি১২ শরীরের রক্তকণিকা ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু গবেষণায় অল্প বয়সে চুল পাকার সঙ্গে বি১২-এর ঘাটতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বি১২-এর ভালো উৎস। তবে শুধু চুল সাদা হওয়ার ভিত্তিতে বি১২-এর ঘাটতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
আয়রন ও ফেরিটিনের ঘাটতি
আয়রন চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে ফেরিটিন হলো শরীরে সঞ্চিত আয়রনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। আয়রন বা ফেরিটিনের মাত্রা কমে গেলে চুল পড়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। অকালপক্বতার সঙ্গেও কম ফেরিটিনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এটিকে চুল সাদা হওয়ার একমাত্র বা নিশ্চিত কারণ বলা যায় না।
কপারের ঘাটতি
কপার মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ মেলানিন তৈরির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইমের কার্যক্রমে কপার প্রয়োজন হয়। তাই শরীরে কপারের ঘাটতি হলে চুলের স্বাভাবিক রঞ্জক তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
জিঙ্কের ঘাটতি
জিঙ্ক শরীরের কোষের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। জিঙ্কের ঘাটতির সঙ্গে চুলের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। কিছু গবেষণায় অকালপক্বতার সঙ্গেও এর সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
মানসিক চাপও কি চুল পাকাতে পারে?
দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত মানসিক চাপ চুলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র চাপ চুলের ফলিকলে রং তৈরির সঙ্গে যুক্ত মেলানোসাইট স্টেম সেলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসও চুলের অকালপক্বতার একটি সম্ভাব্য কারণ।
তবে মনে রাখতে হবে, সাদা চুল দেখলেই শরীরে কোনো নির্দিষ্ট ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বংশগত কারণ অকালপক্বতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পাশাপাশি কিছু শারীরিক সমস্যাও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।