খুলনা জেলা প্রতিনিধি: ফাহিম ইসলাম
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান ওরফে সাইফি এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। গোপালগঞ্জ ও খুলনার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি ওয়ান শুটার গান, একটি রিভলবার, এক রাউন্ড সীসা গুলি, দুটি চাপাতি ও একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—রাফিকুল ইসলাম রাকিব ও মামলার ৩ নম্বর আসামি সাগর আহম্মেদ।
র্যাব-৬ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) র্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি দল গোপালগঞ্জ সদর থানার মাঝিগাতী বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে জোড়া খুনের মামলার প্রধান আসামি আলামিন হাসান ওরফে সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন মোল্লাপাড়া বড়খালপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৩ নম্বর আসামি সাগর আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, সাগরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার জাহিদুল ইসলামের হাঁসের খোপের কার্নিশে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি ওয়ান শুটার গান, একটি রিভলবার, এক রাউন্ড সীসা গুলি, দুটি চাপাতি ও একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
### জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী?
র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, দুই পক্ষের বিরোধ, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজমুল হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে মঞ্জুরুলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
### কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই খুন
গত ১৯ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় লবণচরা থানার আশিবিঘা কালভার্ট-সংলগ্ন এলাকায় প্রথমে মঞ্জুরুল ইসলাম (২২/২৩) নামের এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর একই এলাকার শিশুবাগান আশিবিঘা এলাকায় নাজমুল ইসলাম (১৮/১৯) নামের আরেক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতদের বয়সে সামান্য পার্থক্য উল্লেখ করা হয়েছে।
পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লবণচরা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
র্যাব-৬ জানায়, ছায়া তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে সাইফি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাদের গ্রেপ্তারে খুলনা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
### অস্ত্র উদ্ধার ও পরবর্তী ব্যবস্থা
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করে তাদের লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৬। একই সঙ্গে আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, খুলনা মহানগরীতে সাম্প্রতিক একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত কেএমপির নয় থানায় ২৪টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে; এর মধ্যে লবণচরা থানায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল।
র্যাবের এই গ্রেপ্তারের পর আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পুরো ঘটনা এবং হত্যায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।