খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল ভবনের নিচতলার জেনারেটর রুম থেকে ধোয়া দেখার পর ফায়ার সার্ভিস খবর দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন ঠিক কোন জায়গা থেকে বা কী কারণে লেগেছে তা জানা যায়নি।
এদিকে, আগুনের চেয়ে ধোঁয়া বেশি দেখা গেছে ঘটনাস্থলে গিয়ে। এজন্য হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় রোগীর স্বজনদেরকে জানালার গ্লাস ভেঙে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দেখা যায়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সিঁড়ি সংলগ্ন জানালা থেকেও রোগী ও স্বজনদের নামাতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত কাভার করতে পারে। যদিও হাসপাতালটি ১৬ তলা বিশিষ্ট। এজন্য রোগী ও স্বজনদের বেশ আতঙ্কগ্রস্ত দেখা যায়।
আগুনের ঘটনার পরপরই বেশকিছু রোগীকে নামিয়ে শান্তিধাম মোড়স্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ধোঁয়ার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত হওয়ায় আশপাশের কোনো অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ও রোগীদের সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয়রাও কাজ করেছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সম্ভবত বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু মোবাইলে খোঁজখবর রাখছেন তিনি। কতজন রোগী ছিল, কতজনকে বের করে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে সেগুলো কিছুই জানেন না তিনি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ সরদার জানান, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগে এবং ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা ও জনগণের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণ তথা আগুন নেভানো সম্ভব হয়। হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়। কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ সাপেক্ষে জানানো যাবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র মিডিয়া সেল জানায়, খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আগুনের পর উদ্ধার অভিযানে সহায়তা দিয়েছে বিজিবি।
আগুনের খবর শুনে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।